Table of Contents
ডায়াবেটিস শুধু একটি রোগ নয়, এটি একটি জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ। যখন শরীরে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তখন এটি হৃৎপিণ্ড, কিডনি এবং চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, আপনি যদি আপনার খাদ্যতালিকায় সাতটি বিশেষ খাবার অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে আপনি মাত্র ৭ দিনে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারেন, অর্থাৎ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
যেসব খাবার প্রাকৃতিক ভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে
ঢেঁড়স: ঢেঁড়স ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি আশীর্বাদ। এটি ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা খাওয়ার পর রক্তে ধীরে ধীরে শর্করা নিঃসরণ হতে সাহায্য করে। এতে হঠাৎ শর্করা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে যায়। ঢেঁড়স শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন উন্নত করে, যা এর সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডো কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এই সবগুলো একসাথে হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখে। অ্যাভোকাডো খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, যা ঘন ঘন ক্ষুধা নিবারণ করে এবং অতিরিক্ত খাওয়া প্রতিরোধ করে।
মেথি বীজ: মেথি ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং শর্করা শোষণ প্রতিরোধ করে। রাতে মেথি ভিজিয়ে সকালে এর জল পান করলে অলৌকিকভাবে রক্তে শর্করা কমে যায়।
করলা: করলায় ‘পলিপেপটাইড-পি’ নামক একটি ইনসুলিনের মতো যৌগ থাকে। এটি শরীরে প্রাকৃতিক ইনসুলিনের মতো কাজ করে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, মেথি এবং তন্দলজার মতো সবজি ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। যেহেতু এতে ক্যালোরি কম থাকে, তাই এটি শর্করা বাড়তে দেয় না এবং শরীরকে পুষ্টি জোগায়।
আরও পড়ুন : শীতকালে হাঁপানি কেন বাড়ে? জেনে নিন প্রধান কারণগুলো
গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন শরীরের গ্লুকোজ বিপাক উন্নত করে। এটি চর্বি কমাতেও সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে সহজ করে তোলে। প্রতিদিন ১-২ কাপ গ্রিন টি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
বার্লি: বার্লি একটি ফাইবার সমৃদ্ধ শস্য। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বাড়তে দেয়। বার্লি খেলে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা প্রতিরোধ করা যায় এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় থাকে। আপনি বার্লির রুটি খেতে পারেন বা বার্লির জল পান করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করলে হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ এবং স্নায়ু সম্পর্কিত গুরুতর সমস্যা হতে পারে। একারণেই ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটাও জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করাও সমানভাবে অপরিহার্য। আপনি যদি ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করেন, তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।