বর্তমান সময়ে, চুল পড়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এখন আর কেবল বয়স বা ঋতু পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আমাদের জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপের সাথে গভীরভাবে জড়িত। গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম এবং মাথার ত্বকে জমে থাকা ময়লার কারণে এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে, সবাই চুল মজবুত করতে এবং চুল পড়া রোধ করতে সহজ অথচ কার্যকর কিছু প্রতিকার খুঁজে চলেছে। এই খোঁজের মাঝেই, বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকার এমন কিছু প্রাকৃতিক ও সহজ কৌশল শেয়ার করেছেন, যা কেবল চুল পড়া কমাতেই সাহায্য করে না, বরং চুলের গোড়াকে ভেতর থেকে পুষ্টিও জোগায়।
তিনি মনে করেন যে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ঘরোয়া টোটকা এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে দামী চিকিৎসার সাহায্য ছাড়াই সুস্থ ও ঘন চুল পাওয়া সম্ভব। আপনিও যদি চুল পড়ার সমস্যায় জর্জরিত হন এবং একটি প্রাকৃতিক, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের সন্ধানে থাকেন, তবে এই পরামর্শগুলো আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। চলুন, এই নিবন্ধে সেই পরামর্শগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রুজুতা দিওয়েকার জানালেন কীভাবে চুল পড়া রোধ করা যায়
কারিনা কাপুরের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকার সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এই ভিডিওতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, কীভাবে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে আপনি আপনার চুলকে আরও সুস্থ ও সতেজ করে তুলতে পারেন। রুজুতা উল্লেখ করেছেন যে, আপনি যদি নিজেকে আরও ছিপছিপে বা স্লিম দেখানোর উদ্দেশ্যে আপনার খাদ্যতালিকা থেকে ভাত, ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেট বাদ দেন—তবে আপনার শরীর হয়তো সত্যিই কিছুটা শুকিয়ে যাবে বা স্লিম হবে—কিন্তু খাদ্যের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আপনার চুলকেও পাতলা করে দেয়। অনেকেই মনে করেন যে, ভাত খেলে ওজন বেড়ে যায়; তবে এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আপনি যদি সুস্থ ও ঘন চুলের অধিকারী হতে চান, তবে আপনার খাদ্যতালিকায় দিনে অন্তত একবার ভাত অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
সুস্থ চুলের জন্য কিছু পরামর্শ
মৌসুমি ফলও অত্যন্ত উপকারী: একটি ভিডিওতে পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকর উল্লেখ করেছেন যে, আপনি যদি চুল সুস্থ রাখতে চান, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো স্থানীয় এবং মৌসুমি ফল—যেমন পেয়ারা, আমলকী, আম ইত্যাদি—নিয়মিত গ্রহণ করা। এই ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে, যা শরীরে আয়রন বা লৌহ শোষণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ফলে, যখন আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক ও সুস্থ থাকে, তখন আমাদের চুলের অবস্থাও ভালো থাকে।
ডাল বা শস্যজাতীয় খাবার গ্রহণও অপরিহার্য: রুজুতা দিওয়েকর ব্যাখ্যা করেন যে, বিভিন্ন ধরণের ডাল—পাশাপাশি রাজমা (কিডনি বিন) এবং ছোলা—চুলকে মজবুত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আপনি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে বিভিন্ন ধরণের ডাল—যেমন অড়হর, মসুর এবং মুগ ডাল—অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এই শস্যজাতীয় খাবারগুলোতে অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ‘বি’ এবং ফাইবারসহ (তন্তু) প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। যদিও এই পুষ্টি উপাদানগুলো নিঃসন্দেহে আমাদের সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবুও এগুলো বিশেষভাবে চুলকে মজবুত ও শক্তিশালী করতে কাজ করে।
আরও পড়ুন : প্রচণ্ড গরমে চুলে তেল দেওয়া কি সঠিক? জেনে নিন বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন
এই বীজগুলো গ্রহণ করুন: এই পুষ্টিবিদের মতে, চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বীজ অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘হালিম’ বা ‘হারিম’ বীজ (গার্ডেন ক্রেস সিড)। আপনি লাড্ডু কিংবা ক্ষীরের (পায়েস) সাথে মিশিয়ে এই বীজগুলো খেতে পারেন। এটি শরীরের জন্য প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি সরবরাহ করে; যা কেবল শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং চুলকে আরও ঘন ও শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে এবং একই সাথে চুল পড়া রোধে সহায়তা করে।
চুলে তেলের মালিশ: কারিনা কাপুরের পুষ্টিবিদ পরামর্শ দেন যে, সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে তেলের মালিশ করা উচিত। তেল লাগানোর পর অন্তত ৩০ মিনিট তা চুলে রেখে দিন, এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন চুল আঁচড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। এছাড়াও, চুলে রাসায়নিক উপাদানযুক্ত প্রসাধনী এবং ‘হিট-স্টাইলিং’ বা তাপ-নির্ভর স্টাইলিং যন্ত্রপাতির ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।