ভিটামিন ‘এ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে শরীরে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে; যেমন—দৃষ্টিশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা, বারবার সংক্রমণের শিকার হওয়া এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মানুষের—বিশেষ করে ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল—ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে ভোগার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টি উপাদানের সাধারণ ঘাটতি এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও এই সমস্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করা অপরিহার্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে শরীরে ঠিক কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ বা প্রতিকার করা সম্ভব।
শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবের লক্ষণগুলো কি কি?
দিল্লি এমসিডি (MCD)-এর সাথে যুক্ত ডা. অজয় কুমার জানান যে, যখন শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দেখা দেয়, তখন শরীর বিভিন্ন সংকেত পাঠাতে শুরু করে—যা অনেক সময়ই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো রাতে বা কম আলোতে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা হওয়া, অথবা সামগ্রিকভাবে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া। এছাড়া, চোখে শুষ্কতা বা অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে। ত্বক শুষ্ক ও লাবণ্যহীন হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া এবং চুল ভঙ্গুর হয়ে যাওয়াও এই পুষ্টি উপাদানের অভাবের অন্যতম নির্দেশক।
ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা বিভিন্ন সংক্রমণের শিকার হওয়াও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে শরীরের কোনো ক্ষত বা আঘাত শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে—আর এই বিলম্বের পেছনেও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব দায়ী হতে পারে। এই সমস্ত লক্ষণ সম্মিলিতভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, শরীরে এই অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানটির মজুদ ক্রমশ কমে আসছে।
ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব কীভাবে দূর করা সম্ভব?
ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি পূরণের জন্য নিজের খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজিকে ভিটামিন ‘এ’-এর চমৎকার উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া, দুধ, ডিম এবং মাছের মতো খাবারগুলোও এই ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত উপকারী।
আরও পড়ুন : মানসিক চাপ, আলস্য ও ক্লান্তি দূর করুন… মেজাজ ভালো করতে এই ৫টি খাবার খান
প্রতিদিন একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণ করার মাধ্যমেই ভিটামিন ‘এ’-এর এই ঘাটতি সফলভাবে পূরণ করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে, চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা যেতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
কেবল সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রতিও মনোযোগী হওয়া অপরিহার্য। সময়মতো খাবার খান, জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের তাদের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে অধিক সচেতন হওয়া উচিত। স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব।