Vitamin D একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং হাড়কে মজবুত করে। শিশুদের জন্য এটি বিশেষভাবে জরুরি, কারণ জীবনের এই পর্যায়েই তাদের হাড় ও দাঁতের দ্রুত বিকাশ ঘটে। শিশুরা যদি ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভোগে, তবে তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এই অভাবের লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে হাড় ব্যথা, সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, পেশির দুর্বলতা এবং হাঁটা বা দাঁড়ানোর মতো বিকাশের মাইলফলকগুলো অর্জনে বিলম্ব।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে, খিটখিটে মেজাজ এবং ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রবণতাও এই পুষ্টি উপাদানের অভাবের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। বর্তমানে শিশুরা ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—যা Vitamin D-এর অভাব সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, অভিভাবকদের উচিত শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সময়মতো এই পুষ্টি উপাদানের অভাব শনাক্ত করা। চলুন, শিশুদের ভিটামিন ডি-এর অভাবের মূল কারণগুলো এবং এর ফলে তারা কোন কোন নির্দিষ্ট রোগের ঝুঁকিতে থাকে, তা খতিয়ে দেখা যাক।
শিশুদের ভিটামিন ডি-এর অভাব কেন হয়?
‘হেলথলাইন’ (Healthline)-এর তথ্যমতে, শিশুদের ভিটামিন ডি-এর অভাবের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে না আসা; কারণ সূর্যের রশ্মিই হলো ভিটামিন ডি-এর প্রধান প্রাকৃতিক উৎস। এছাড়া, শিশুর খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব—বিশেষ করে ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার কম গ্রহণ করা—এই অভাব সৃষ্টির আরেকটি অন্যতম কারণ হতে পারে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে, শরীর সঠিকভাবে Vitamin D শোষণ করতে ব্যর্থ হতে পারে, যার ফলে শরীরে এই পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দেয়। ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত সময় কাটানো, স্ক্রিন বা পর্দার সামনে (টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার) বেশি সময় ব্যয় করা এবং শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলার অভাব এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যেসব শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি না থাকে, তবে শিশুর শরীরেও এই পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন : ব্যায়ামের পর পেশিতে ব্যথা কেন হয়? এটি প্রতিরোধের উপায় কি জানুন
Vitamin D-এর অভাবে শিশুরা কোন কোন রোগের ঝুঁকিতে থাকে?
Vitamin D-এর অভাব শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর গভীর ও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাড়ের সঠিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই পুষ্টি উপাদানের অভাব অব্যাহত থাকে, তবে হাড়-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং শিশুর সামগ্রিক শারীরিক শক্তিও হ্রাস পেতে পারে। তাছাড়া, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুদের ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। পেশির দুর্বলতা এবং ক্লান্তি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমতাবস্থায়, সময়মতো এই ঘাটতি শনাক্ত করা এবং যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
কীভাবে এই ঘাটতি মোকাবিলা করবেন?
ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পুনরুদ্ধার করতে, শিশুদের প্রতিদিন কিছুটা সময় বাইরে রোদের মধ্যে খেলাধুলা করে কাটানো উচিত। পাশাপাশি, তাদের খাদ্যাতালিকায় দুধ, ডিম, মাছ এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার (fortified foods) অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন সাপ্লিমেন্টও সেবন করানো যেতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনধারা অবলম্বনের মাধ্যমে এই ঘাটতি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।