আম খেলে কি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে? স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে আম খাওয়ার সঠিক উপায় জানুন

গ্রীষ্মের আগমনের সাথে সাথেই চলে আসে আমের মৌসুম। অনেকেই আম খেতে খুব ভালোবাসেন। তবে, আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ উচ্চ, আর এটি গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা না বাড়িয়েও আম উপভোগ করার কি কোনো উপায় আছে?

3 Min Read

গ্রীষ্মকালে মানুষ আম খাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে। তবে অনেকের মনেই প্রায়শই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়: আম খেলে কি সত্যিই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়? বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়ই এই বিভ্রান্তিতে ভোগেন যে, আম খেলে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে কি না। আম কি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়? আর এমন কি কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে যা অবলম্বন করলে আম খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না? চলুন জেনে নেওয়া যাক এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কি বলেন।

আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) ৫১ থেকে ৬০-এর মধ্যে থাকে—যার অর্থ হলো এটি খুব বেশিও নয়, আবার খুব কমও নয়। এর মানে হলো, যদিও এটি রক্তে শর্করার মাত্রায় হঠাৎ কোনো বড় উল্লম্ফন ঘটায় না, তবুও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, অতিরিক্ত আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

আম কি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়?

সফদরজং হাসপাতালের সিনিয়র রেসিডেন্ট ডা. দীপক কুমার সুমন ব্যাখ্যা করেন যে, আমে প্রাকৃতিকভাবেই চিনি বা শর্করা থাকে। তাছাড়া, আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) ৫০-এর বেশি। ফলে, আপনি যদি অত্যধিক পরিমাণে আম গ্রহণ করেন, তবে তা নিঃসন্দেহে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। তাই, পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত, প্রতিদিন একটি করে আম খাওয়াকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আমের পরিমাণ সীমিত রাখা অপরিহার্য; তাছাড়া, একটি নির্দিষ্ট ও সচেতন পদ্ধতিতে আম গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন : শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়াতে কি কি খাবার খাওয়া উচিত? জানুন

ডায়াবেটিস রোগীরা কীভাবে আম খাবেন?

ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে; তবে আম খাওয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখলে স্বাস্থ্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এটি নিশ্চিত করতে হলে, একবারে ১০০ গ্রামের বেশি আম না খাওয়া বা পরিমাণ সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, সকালে খালি পেটে আম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং আম দিয়ে শেক বা স্মুদি তৈরি করে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আম খাওয়ার সময় সর্বদা এর সাথে আঁশসমৃদ্ধ কোনো ফল কিংবা কিছু বাদাম খান। বাদামে প্রোটিন থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া রোধ করে। ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয় না; বরং ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে তা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Share This Article