শরীরের মেদ কমাতে চান? এই ১০টি প্রোটিন এড়িয়ে চলুন

আপনি যদি সত্যিই শরীরের মেদ কমাতে চান, তবে কেবল ক্যালোরি গুনে গেলেই চলবে না। আপনাকে আপনার খাদ্যাভ্যাসের গুণমানের দিকেও গভীর মনোযোগ দিতে হবে। আপনি যদি মেদ কমানোর এই যাত্রায় প্রোটিনকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন, তবে প্রথমেই আপনার চিহ্নিত করা উচিত যে কোন কোন প্রোটিন উৎসগুলো আপনার জন্য উপযুক্ত নয়। এই নিবন্ধে, আমরা আপনাকে এমন কিছু প্রোটিন উৎসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব, যেগুলো আপনার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।

5 Min Read

অতিরিক্ত ওজন অসংখ্য রোগের আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করে। ফলস্বরূপ, বর্তমানে ক্রমশ অধিক সংখ্যক মানুষ ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন এবং ওজন কমাতে ডায়েট ও ব্যায়ামের সম্মিলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন। তবে, অনেকেরই এমন একটি ধারণা রয়েছে যে, ওজন কমানো কিংবা একটি সুঠাম ও সুস্থ শরীর বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রোটিনই হলো একমাত্র এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তারা জিমে যান কিংবা ডায়েট করেন—সবারই লক্ষ্য থাকে তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যতটা সম্ভব বেশি প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করা। অথচ ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রোটিন গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং আপনি কি ধরনের প্রোটিন গ্রহণ করছেন—তা বোঝাটাও সমানভাবে জরুরি। প্রায়শই মানুষ এমন কিছু খাবার গ্রহণ করে—যা তারা ভুলবশত স্বাস্থ্যকর বলে মনে করে—অথচ প্রকৃতপক্ষে সেই খাবারগুলো শরীরের মেদ বৃদ্ধিতেই সহায়তা করে এবং এর ফলে ওজন কমানোর লক্ষ্যে তাদের করা সমস্ত কঠোর পরিশ্রমই বৃথা হয়ে যায়।

ফিটনেস প্রশিক্ষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন উৎসে অত্যধিক পরিমাণে চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি, সোডিয়াম এবং প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক সংরক্ষক উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে মন্থর করে দিতে পারে এবং মেদ কমানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, একজন ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এমন কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোটিন উৎস চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। চলুন, সেগুলোর দিকে একটু বিস্তারিত নজর দেওয়া যাক।

ফিটনেস বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে “ক্ষতিকর” প্রোটিন উৎসসমূহ

ফিটনেস বিশেষজ্ঞ লিওনি গ্রেফ সম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি এমন ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রোটিন উৎসের কথা তুলে ধরেছেন—যা ওজন কমাতে সচেষ্ট ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই খাবারগুলো প্রকৃতপক্ষে ওজন কমানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাবারগুলো কি কি।

প্রক্রিয়াজাত মাংস (Processed Meats) এড়িয়ে চলুন

আপনি যদি সুঠাম ও ফিট থাকতে চান, তবে প্রক্রিয়াজাত মাংস বা ‘প্রসেসড মিট’ থেকে দূরত্ব বজায় রাখাটা একান্ত অপরিহার্য। বস্তুত, বেকন এবং সসেজের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসগুলোতে অত্যধিক পরিমাণে চর্বি, লবণ এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সংরক্ষক উপাদান বিদ্যমান থাকে। ফিটনেস প্রশিক্ষকদের মতে, এই খাবারগুলো কেবল অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণই হয়ে দাঁড়ায় না, বরং চর্বি কমানোর প্রক্রিয়াকেও মন্থর করে দিতে পারে। তাই, যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের উচিত এই খাবারগুলোর গ্রহণ সীমিত করা।

ব্রেডক্রাম্ব মাখানো বা ভাজা মুরগির মাংস

মুরগির মাংসকে প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়। তবে, যখন এটি ভাজা হয় কিংবা ব্রেডক্রাম্ব বা রুটির গুঁড়ো দিয়ে মাখিয়ে রান্না করা হয়, তখন এটি তার পুষ্টিগুণের অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। ভাজার ফলে এর ক্যালোরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। ফলে, যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের উচিত এভাবে প্রস্তুত করা মুরগির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা। এক্ষেত্রে, গ্রিল করা বা সেদ্ধ মুরগির মাংস অনেক বেশি শ্রেয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

চর্বিযুক্ত লাল মাংস

লাল মাংসও প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। তবে, লাল মাংসের নির্দিষ্ট কিছু অংশে বা টুকরোতে প্রচুর পরিমাণে ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। চর্বিযুক্ত লাল মাংস খেলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে পারে এবং তা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, চর্বি কমানোর বা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় থাকাকালীন, লাল মাংসের চর্বিহীন বা কম চর্বিযুক্ত অংশগুলো বেছে নেওয়াকেই অধিক বুদ্ধিমানের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রোটিন বার-ও এড়িয়ে চলুন

বাজারে সহজলভ্য অনেক প্রোটিন বার নিজেদের ‘স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস’ হিসেবে প্রচার করে; অথচ, এগুলোতে প্রায়শই অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি এবং কৃত্রিম ফ্লেভার বা স্বাদবর্ধক উপাদান মেশানো থাকে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বারগুলো অনেক সময় ‘লুকানো ক্যান্ডি’ বা মিষ্টির মতোই কাজ করে। এগুলো খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। তাই, প্রাকৃতিক স্ন্যাকস এবং প্রোটিনের সতেজ ও প্রাকৃতিক উৎসগুলো বেছে নেওয়াই অধিক সুফলদায়ক পন্থা।

আরও পড়ুন : অতিরিক্ত ঘাম কি ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে? জানুন

প্রোটিন শেক-ও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত

সব প্রোটিন শেক-ই যে জন্মগত ভাবে বা প্রাকৃতিক ভাবে স্বাস্থ্যকর হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক প্রোটিন শেক-এই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চিনি এবং কৃত্রিম ফ্লেভার মেশানো থাকে। ওজন কমাতে সাহায্য করার পরিবর্তে, এই ধরনের পানীয়গুলো উল্টো শরীরে ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই, কোনো প্রোটিন শেক কেনার আগে, এর পুষ্টিবিষয়ক লেবেলটি (nutritional label) মনোযোগ সহকারে পড়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, যারা ওজন কমাতে আগ্রহী, তাদের উচিত নিজেদের খাদ্যাভ্যাস থেকে চিজ বা পনিরযুক্ত ভারী খাবার, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস (deli meats) এবং ফ্লেভারযুক্ত দই বাদ দেওয়া।

Share This Article