অভিভাবকরা প্রায়শই তাদের সন্তানদের উচ্চতা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। প্রতিটি অভিভাবকই চান তাদের সন্তান যেন সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে এবং তাদের শারীরিক বিকাশ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। তবে, একটি শিশুর উচ্চতা কেবল তার খাদ্যাভ্যাসের ওপরই নির্ভর করে না; জিনগত বৈশিষ্ট্য (genetics), শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য অবস্থাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবুও, শরীরের বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি কোনো শিশুর খাদ্যাভ্যাস সুষম না হয়, তবে তার শারীরিক বিকাশ বা বৃদ্ধি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
শৈশব এবং কৈশোরকালকে শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশের অত্যন্ত দ্রুতগতির সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সময়ে শরীরের পর্যাপ্ত শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানের প্রয়োজন হয়। যদি কোনো শিশু সুষম ও পুষ্টিকর খাবার না পায়, তবে তার শারীরিক বিকাশের গতি ব্যাহত হতে পারে। কেবল এক বা দুটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে, শিশুদের বৈচিত্র্যময় ও নানারকম খাবার পরিবেশন করা অত্যন্ত জরুরি। তাই, এটি বোঝা অত্যন্ত প্রয়োজন যে—কোন কোন পুষ্টি উপাদান একটি শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধি ও শারীরিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য এবং কীভাবে এই পুষ্টি উপাদানগুলোর অভাব প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কোন কোন পুষ্টি উপাদান শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে?
সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর মতে, শৈশব ও কৈশোরকালে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ সুস্থ শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’ এবং আয়রনের মতো পুষ্টি উপাদানগুলোকে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রোটিন শরীরের পেশি ও টিস্যু বা কলার গঠনে সহায়তা করে। অন্যদিকে, হাড় মজবুত করতে এবং হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-কে অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়। আয়রন বা লৌহ সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে, যার ফলে শিশুরা সর্বদা সক্রিয় ও কর্মচঞ্চল থাকতে পারে। এছাড়া, জিঙ্ক (দস্তা), ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনও শরীরের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। CDC-এর পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের উচিত একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই পুষ্টি উপাদানগুলো গ্রহণ করা। ফলমূল, শাকসবজি, দুগ্ধজাত পণ্য, ডাল, ডিম, পূর্ণ শস্য বা হোল গ্রেইন এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার শিশুদের সুস্থ শারীরিক বিকাশে সহায়তা করতে পারে।
কোন কোন অভ্যাস শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? একটি শিশুর বৃদ্ধি কেবল তার খাদ্যাভ্যাসের ওপরই নির্ভর করে না; তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোও এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কসরত এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সুস্থ বিকাশের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ এবং বাইরের বিভিন্ন কার্যকলাপে অংশগ্রহণ শিশুদের হাড় ও পেশি শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুন : উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার কি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে? জানুন
তাছাড়া, শিশুদের ‘স্ক্রিন টাইম’ (মোবাইল বা টিভির সামনে কাটানো সময়) সীমিত রাখা এবং একটি নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলাও উপকারী বলে বিবেচিত হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা, মানসিক চাপমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও তাদের সর্বোত্তম বিকাশে অবদান রাখতে পারে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো শিশুদের শারীরিক ও মানসিক—উভয় প্রকার বৃদ্ধিকেই সহায়তা করে।
শিশুদের এই অভ্যাসগুলো থেকে দূরে রাখুন
কিছু নেতিবাচক অভ্যাসও একটি শিশুর বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্ক ফুড ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানো (মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা) এবং শারীরিক কসরতের অভাব তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, রাতে দেরি করে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া শরীরের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই, শিশুদের এই ধরনের অভ্যাসগুলো থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।