আপনার পায়ের তালুতে কি অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে? জেনে নিন কি করবেন আর কি এড়িয়ে চলবেন।

2 Min Read

পায়ের পাতায় অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস’ (Plantar Hyperhidrosis) নামে পরিচিত। গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে এই সমস্যাটি প্রায়ই বেড়ে যায়, যার ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে।

এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনার যা করা উচিত এবং যা এড়িয়ে চলা উচিত, তা নিচে দেওয়া হলো:

সবসময় ১০০% সুতি বা উলের মোজা পরুন। এই উপাদানগুলো সহজেই ঘাম শোষণ করে এবং বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। নাইলন বা সিন্থেটিক মোজা এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ঘাম ভালোভাবে শোষণ বা দূর করতে পারে না।

দিনে অন্তত একবার আপনার মোজা ধুয়ে ফেলুন। একই জুতো টানা দুদিন না পরে অদলবদল করে পরুন; এতে ব্যবহারের পর জুতো শুকানোর জন্য অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়।

সপ্তাহে দুই বা তিনবার ইপসম সল্ট (Epsom salt) বা চা-পাতা ফোটানো জল মেশানো হালকা গরম জলে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড পায়ের ঘাম নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে, ফলে ঘাম কম হয়।

অনেকেই স্নান বা পা ধোয়ার পর পা ভালোভাবে না শুকিয়েই মোজা ও জুতো পরে ফেলেন। এই ভুলটি কখনোই করবেন না। জুতো পরার আগে পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো মুছে নিন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার পা সম্পূর্ণ শুকনো।

প্লাস্টিক, রাবার বা সিন্থেটিক লেদার (রেক্সিন)-এর তৈরি জুতো পরা বন্ধ করুন। এই উপাদানগুলো বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, ফলে পায়ের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘাম হওয়ার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর পরিবর্তে আসল চামড়া বা ক্যানভাসের জুতো বেছে নিন।

চা, কফি, চকলেট কিংবা অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার শরীরের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে (sympathetic nervous system) উদ্দীপ্ত করে, যা ঘাম নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোকে আরও সক্রিয় করে তোলে। তাই এ ধরনের খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

জুতোর ভেতরটা সামান্য ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে থাকলেও তা পরবেন না। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ঘটে; এগুলো ঘামের সাথে মিশে সংক্রমণের সৃষ্টি করে এবং পায়ে তীব্র দুর্গন্ধ তৈরি করে।

Share This Article