সারারাত ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও কি ক্লান্ত লাগছে? এর পেছনে থাকতে পারে এই অভ্যাসগুলো

৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও কি ঘুম থেকে ওঠার সময় ক্লান্তি অনুভব করেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ, ঘুমের নিম্নমান, স্ক্রিন টাইম (মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা) এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস আপনার শক্তির মাত্রাকে যতটা ভাবছেন তার চেয়েও বেশি প্রভাবিত করতে পারে।

4 Min Read

আপনি কি কখনও টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও ক্লান্ত, অলস বা একেবারে শক্তিহীন বোধ করেছেন? এমনটা কিন্তু শুধু আপনার সাথেই হচ্ছে না। আজকাল অনেকেই অভিযোগ করেন যে, আপাতদৃষ্টিতে ‘পর্যাপ্ত ঘুম’ হওয়ার পরেও তারা চরম ক্লান্তি অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি সবসময় ঘুমের সময়সীমা নিয়ে নয়—কখনও কখনও সমস্যাটি হলো আপনার শরীর কেমন মানের ঘুম পাচ্ছে। মানসিক চাপ ও স্ক্রিন টাইম থেকে শুরু করে জলশূন্যতা এবং ঘুমের বাজে অভ্যাস—এমন অনেক কারণ রয়েছে যার ফলে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটানোর পরেও একজন মানুষ ক্লান্ত বোধ করতে পারেন।

ঘুমের নিম্নমান এর একটি কারণ হতে পারে

চিকিৎসকরা বলেন, শরীরকে সতেজ ও বিশ্রামিত অনুভব করানোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কেউ যদি ৮ ঘণ্টা ঘুমানও, তবুও রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে বারবার ব্যাঘাত ঘটলে তা পরদিন সকালে শক্তির মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

কোলাহল, মানসিক চাপ, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অস্বস্তিকর পরিবেশে ঘুমানোর মতো বিষয়গুলো মানুষ টেরই না পেয়ে ঘুমের মান কমিয়ে দিতে পারে।

শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে

আজকাল গভীর রাতে ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করা অনেকেরই সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে তা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

ফোন, ল্যাপটপ এবং টেলিভিশন থেকে নির্গত নীল আলো (ব্লু লাইট) ঘুমের আগে মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে শিথিল হতে বাধা দিতে পারে। এর ফলে পরদিন সকালে একজন মানুষ কতটা সতেজ বোধ করবেন, তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

মানসিক চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি

মানসিক চাপ আরেকটি বড় কারণ যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই কথা বলেন। কাজের চাপ, অতিরিক্ত চিন্তা, উদ্বেগ এবং মানসিক ক্লান্তি—এসবই ঘুমের মানকে প্রভাবিত করতে পারে।

কখনও কখনও শরীর হয়তো বিশ্রাম পায়, কিন্তু মন সারারাত সচল থাকে; ফলে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পরেও মানুষ ক্লান্ত বোধ করে।

জলশূন্যতা এবং খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলশূন্যতাও ক্লান্তি এবং শক্তির মাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। গভীর রাতে খুব ভারী খাবার খাওয়া বা শোয়ার আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে, ভিটামিন B12, আয়রন বা ভিটামিন ডি-এর মতো পুষ্টির ঘাটতিও মানুষকে সবসময় ক্লান্ত বোধ করাতে পারে।

অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলেও ক্লান্তি হতে পারে

আশ্চর্যের বিষয় হলো, অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে কখনও কখনও মানুষ আরও বেশি ঝিমুনি বা জড়তা অনুভব করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের অনিয়মিত সময়সূচী এবং অতিরিক্ত ঘুম শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে ব্যাহত করতে পারে এবং শক্তির মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

আরও পড়ুন : প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ, তা কি জানেন?

ঘুমের সমস্যা উপেক্ষা করা উচিত নয়

ডাক্তাররা আরও বলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কখনও কখনও অনিদ্রা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম সত্ত্বেও যদি কেউ নিয়মিত ক্লান্ত বোধ করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ছোট ছোট অভ্যাস ঘুমের উন্নতি করতে পারে

বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখা, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা এবং ঘুমের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করার পরামর্শ দেন।

মাঝে মাঝে ক্লান্ত বোধ করা স্বাভাবিক হলেও, ক্রমাগত ক্লান্ত হয়ে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের একটি সংকেত হতে পারে যে কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

Share This Article