যদি কোনো ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে চিকিৎসকরা সাধারণত বুকের এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেন। এই রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ফুসফুসে কোনো তরল জমেছে কি না। ফুসফুসে কেন তরল জমে ওঠে? এটি কতটা বিপজ্জনক? এর কারণ এবং প্রতিরোধের উপায়গুলোই বা কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হয়েছি।
দিল্লির মূলচাঁদ হাসপাতালের পালমোনোলজি (ফুসফুস রোগ বিভাগ) বিভাগের চিকিৎসক ডা. ভগবান মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, ফুসফুসে তরল জমার এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “পালমোনারি ইডিমা” (Pulmonary Edema) বলা হয়। বিভিন্ন কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এর মূল সম্পর্কটি সরাসরি ফুসফুসের সাথে নয়, বরং হৃদপিণ্ডের সাথে জড়িত। যখন হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়—বিশেষ করে যখন এটি দক্ষতার সাথে রক্ত পাম্প করতে পারে না—তখনই ফুসফুসে তরল জমতে শুরু করে।
এ ছাড়াও, পালমোনারি টিউবারকুলোসিস (টিবি) বা অন্যান্য সংক্রমণের কারণেও এই অবস্থার সূত্রপাত হতে পারে। যদি ফুসফুসে তরল জমার পরিমাণ অত্যধিক হয়ে পড়ে এবং এই অবস্থার যথাযথ চিকিৎসা না করা হয়, তবে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে যদি রোগীর আগে থেকেই হৃদপিণ্ড বা ফুসফুস সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, অথবা রোগীর বয়স ৬০ বছরের বেশি হয়।
ফুসফুসে তরল জমা কেন বিপজ্জনক?
ডা. মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, ফুসফুসে তরল জমা বিপজ্জনক হওয়ার মূল কারণ হলো—এটি হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুস—উভয়ের ওপরই বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর ফলে হার্ট ফেইলিওর বা হৃদপিণ্ড বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়; তাছাড়া, ফুসফুসে তরল জমে থাকার কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে এবং শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। যদি ফুসফুসে তরল জমার পরিমাণ অত্যধিক হয় এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা না হয়, তবে পরিস্থিতি সত্যিই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই, এই অবস্থার লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা এবং অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন : মহিলাদের মাইগ্রেন ব্যথার কারণ কি? এটি প্রতিরোধের উপায় কি কি
ফুসফুসে তরল জমার লক্ষণগুলো কি কি?
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি, যা ওষুধ সেবনের পরেও কমে না
- বুকে তীব্র ব্যথা
- শ্বাসকষ্ট
- বমি বমি ভাব
প্রতিরোধের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?
- আপনার যদি যক্ষ্মা (TB) থাকে, তবে নিশ্চিত করুন যে আপনি সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
- আপনার কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- দীর্ঘস্থায়ী কাশিকে হালকাভাবে নেবেন না।
- আপনার যদি ফুসফুসের সংক্রমণের সন্দেহ হয়, তবে পরীক্ষা করিয়ে নিন।