আজকাল অনেক মহিলা মাইগ্রেনের শিকার হচ্ছেন—এটি এক ধরণের তীব্র এবং বারবার ফিরে আসা মাথাব্যথা। সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে এটি কিছুটা আলাদা এবং প্রায়শই এতে মাথার একপাশে দপদপ করা বা স্পন্দনশীল ব্যথা অনুভূত হয়। মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় বমি, বমি-বমি ভাব এবং তীব্র আলো বা উচ্চ শব্দে সংবেদনশীলতার মতো লক্ষণগুলোও দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পাশাপাশি মাথা ঘোরা এবং শারীরিক দুর্বলতাও অনুভূত হয়।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অত্যধিক মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব রয়েছে—এমন নারীদের মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাছাড়া, হরমোনের মাত্রার ওঠানামার কারণেও নারীদের মধ্যে মাইগ্রেন সমস্যাটি অধিক মাত্রায় দেখা যায়। এই সমস্যাটি ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে; তাই এটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। চলুন, নারীদের মাইগ্রেন ব্যথার সুনির্দিষ্ট কারণগুলো এবং তা প্রতিরোধের উপায়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
নারীদের মাইগ্রেন ব্যথার কারণ কি?
আরএমএল (RML) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর প্রফেসর ডা. সুভাষ গিরি জানান যে, নারীদের মাইগ্রেনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে; যার মধ্যে হরমোনের পরিবর্তনকেই সবচেয়ে প্রধান বা মুখ্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা কিংবা মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির সময় হরমোনের মাত্রার যে ওঠানামা হয়, তা মাইগ্রেনের আক্রমণের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এছাড়া, অত্যধিক মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তাও মাইগ্রেন ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ঘুমের অনিয়ম, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবও এই সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু কিছু নারীর ক্ষেত্রে তীব্র আলো, উচ্চ শব্দ কিংবা দীর্ঘক্ষণ ধরে স্ক্রিনের (কম্পিউটার বা মোবাইল) দিকে তাকিয়ে থাকা মাইগ্রেনের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাছাড়া, খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটি—যেমন দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা কিংবা অত্যধিক পরিমাণে জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড গ্রহণ করা—মাইগ্রেন আক্রমণের অন্যতম কারণ বা ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। সব মিলিয়ে, এই সমস্ত কারণগুলো একত্রিত হয়ে মাইগ্রেন সমস্যার তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মাইগ্রেন ব্যথা প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?
মাইগ্রেন প্রতিরোধের সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হলো একটি নিয়মিত ও সুষম জীবনযাপন বা রুটিন মেনে চলা। সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত যোগব্যায়াম ও ধ্যানের অভ্যাস করুন। দীর্ঘক্ষণ ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন এবং মাঝেমধ্যে চোখের বিশ্রাম নিন।
আরও পড়ুন : বদহজম, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটিকে বিদায় জানান: এই গ্রীষ্মে অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার কিছু টিপস
নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি বিশেষ নজর দিন এবং দীর্ঘক্ষণ পেট খালি রাখা থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করাও মাইগ্রেন প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য। এই সহজ অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করার মাধ্যমে মাইগ্রেনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও যা গুরুত্বপূর্ণ
আপনার যদি বারবার মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়, তবে বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না; বরং একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার মাইগ্রেন উসকে দেয় এমন সুনির্দিষ্ট কারণগুলো (triggers) চিহ্নিত করুন এবং সেগুলো এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন। এছাড়া, সময়মতো ও কার্যকরভাবে এই সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও বাঞ্ছনীয়।