ওয়েব ডেস্ক: দুর্গাপুজো নিয়ে নয়া নির্দেশিকা হাইকোর্টের।আদালত জানিয়েছে, কোভিডের দু’টি টিকা নেওয়া থাকলে অঞ্জলি দেওয়া যাবে এবং সিঁদুর খেলাতেও নেওয়া যাবে অংশ। সিঁদুর খেলা, আরতি, অঞ্জলি -সহ সব আচারে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বড় ক্লাবের ক্ষেত্রে ৫০-৬০ জন নথিভুক্ত সদস্য এবং ছোট ক্লাবের ক্ষেত্রে ১০-১৫ জন এই আচার পালন করতে পারবে। যাদের ক্লাব ঠিক করে দেবে। তবে পুজো মণ্ডপগুলি নো এন্ট্রি জোন রাখার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা বহাল থাকছে। করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানা না হলে পুজোর অনুমতি বাতিল করে দেওয়ার অধিকার থাকছে পুলিশের হাতে।
শুধু তাই নয়, উপাচারের সময়ে কারা মণ্ডপে থাকবেন, সেই নামের তালিকাও আগে থেকে উদ্যোক্তাদের তৈরি করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বৃহস্পতিবার আরও একবার পুজো উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট করে দেন, ‘কঠোরভাবে মানতে হবে করোনা বিধি।’ দুটি ডোজ নেওয়া থাকলেও মাস্ক বাধ্যতামূলক বলে আদালত জানিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এই বছর ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ তারিখ বিসর্জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পুজোর কয়েকদিন অর্থাৎ ৯ তারিখ বিকেল ৩.৩০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। শহরের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে পুলিস পিকেট বাড়ানো হবে।
প্রসঙ্গত, পুজোর মানা হচ্ছে না বিধি নিষেধ, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক আইনজীবী। তিনি বেশ কিছু বিষয় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার ভিত্তিতে আদালত, এদিন এজিকে তলব করে। বেলা ১২.৫৫ মিনিটের মধ্যে এজিকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজ্যের পক্ষ থেকে এজি আদালতে বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন।
এজি আদালতে জানান,
১) সরকার সার্কুলার জারি করেছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না।
২) ১৫ জনের বেশি প্যান্ডেলে নয়। কোনও বাধা না দেওয়া হলেও ‘নো এন্ট্রি জোন’ রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশ মানতে হবে।
৩) এজি এদিন আদালতে স্পষ্ট করেন, গত বছরও সিঁদুর খেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। তবে কতজন এক সঙ্গে মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন, তার সংখ্যা দেওয়া হয়েছে।
৪) ঢাকি শুধু প্যান্ডেলেই থাকবেন।
তবে প্রথমে রাজ্যের সার্কুলার কয়েকটি ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননা করছে বলে মামলাকারী অভিযোগ করেন। সেক্ষেত্রে এজি আদালতে স্পষ্ট জানান, হাইকোর্টের নির্দেশের আগেই সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশের পর আবার অতিরিক্ত সার্কুলার জারি করে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। এজি আদালতে জানান, বর্তমানে বাংলায় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ২ শতাংশের নীচে।
পুজোর গাইডলাইনে বেমালুম ভুল, রাজ্যকে নোটিস আইনজীবীর
এজি আদালতে আরও বলেন, “আমরা নতুন কিছু বলে কাউকে বিরক্ত করছি না। তবে নো এন্ট্রি থাকবে। ডাবল ভ্যাক্সিন থাকতে হবে পূজো উদ্যোক্তাদের।” তবে সিঁদুর খেলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী আইনজীবী। আদালতে তিনি সওয়াল করেন, “সিঁদুর খেলায় স্পর্শ থাকে। গঙ্গাসাগরে ই-স্নানের মতো ই- সিঁদুর খেলা হোক।” যদিও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি আইপি মুখোপাধ্যায় ও অনিরুদ্ধ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট বলে দেন, “স্বাস্থ্য দফতর এই বিষয়গুলো দেখবে। নির্দেশ যে প্যান্ডেলে মানা হবে না, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অষ্টমী থেকে দশমী কি বৃষ্টি হবে! দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের
ইতিমধ্যে রাজ্যে চলমান বিধিনিষেধ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। পুজোর দিনগুলিতে নৈশ কার্ফু শিথিল থাকবে। ফলে রাত জেগে ঠাকুর দেখতে সমস্যা হবে না পুজোপ্রেমী বাঙালির।
