Table of Contents
আজকাল ডায়াবেটিসের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। পরিবর্তিত জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই রোগে ভুগছেন। ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে প্রভাবিত করে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বিশেষভাবে বেশি থাকে। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রায়শই রোগীরা প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনতে পারেন না এবং সমস্যাটি গুরুতর আকার ধারণ করে।
তাই, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মধ্যে সম্পর্ক বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নিই, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ে।
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ছে?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে, ডায়াবেটিস রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রা শরীরের রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালীগুলোকে দুর্বল বা সরু করে দিতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ডায়াবেটিসের সাথে প্রায়শই উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও, ডায়াবেটিসে শরীরে প্রদাহ এবং চর্বি জমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, যা ধমনীগুলোকে শক্ত করে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, যা সময়মতো চিকিৎসায় বাধা দেয়। এই কারণেই ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে।
আরও পড়ুন : উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীরা কি শীতে ঠাণ্ডা জলে স্নান করতে পারেন? জানুন
লক্ষণগুলো কেমন হয়?
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কখনও কখনও ডায়াবেটিস নেই এমন ব্যক্তিদের তুলনায় ভিন্ন এবং কম স্পষ্ট হতে পারে। বুকে তীব্র ব্যথা বা ভারিভাবের পরিবর্তে, আপনি হালকা চাপ, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ঘাম হওয়াও এর লক্ষণ হতে পারে। কিছু রোগীর চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ বা বাম হাতে ব্যথা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, বমি বা অস্থিরতার মতো লক্ষণও দেখা যায়। ডায়াবেটিস স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে, যা ব্যথার অনুভূতি হ্রাস করে এবং রোগীকে বিপদ চিনতে বাধা দেয়। যদি আপনি এই লক্ষণগুলোর কোনোটি অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিরোধের উপায়:
- আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন।
- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- আপনার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।
- মানসিক চাপ কমান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে, কোন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
