Table of Contents
ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শরীর গরম রাখার জন্য মানুষ চা ও কফির ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বারবার চা বা কফি পান করা এই ঋতুতে একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়। যদিও এটি সাময়িক স্বস্তি এবং শক্তি জোগায়, তবে এটি ঘুমের সময়সূচীকেও প্রভাবিত করতে পারে। অনেকেই অনুভব করেন যে শীতকালে তাদের ঘুম আসতে সমস্যা হয় বা ঘুমের মধ্যে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এটি কেবল ঠাণ্ডা বা দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের কারণেই নয়, বরং খাদ্যাভ্যাসের কারণেও ঘটে।
অতিরিক্ত চা ও কফি পান শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়িকে প্রভাবিত করতে পারে, যা ঘুম-জাগরণ চক্রকে ব্যাহত করে। চলুন জেনে নিই, শীতকালে অতিরিক্ত চা ও কফি পান কীভাবে ঘুমের সময়সূচীকে প্রভাবিত করে এবং এর থেকে কি কি সমস্যা হতে পারে।
শীতকালে অতিরিক্ত চা ও কফি পান করলে কেন আপনার ঘুমের সময়সূচীর ব্যাঘাত ঘটতে পারে?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে, শীতকালে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়, যার ফলে শরীর বেশি বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করে। কিন্তু সন্ধ্যায় বা রাতে দেরি করে চা বা কফি পানের অভ্যাস ঘুমকে বিলম্বিত করতে পারে। ঘন ঘন গরম পানীয় পান করলে মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় থাকে এবং শরীর এই সংকেত পায় না যে এটি বিশ্রামের সময়।
এর ফলে, ব্যক্তি গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে বা বিছানায় যাওয়ার পরেও ঘুম আসে না। ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটি ঘুম-জাগরণ চক্রকে ব্যাহত করে। সকালে সময়মতো পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় সারাদিন ক্লান্তি লাগে এবং সেই ক্লান্তি দূর করার জন্য আবার চা বা কফি পান করা হয়। এভাবে পুরো ঘুমের সময়সূচীই এলোমেলো হয়ে যায়।
কি কি ঘুম-সম্পর্কিত সমস্যা দেখা দিতে পারে? শীতের মাসগুলোতে অতিরিক্ত চা ও কফি পান ঘুমের গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে অনিদ্রা, ঘন ঘন ঘুম ভাঙা বা হালকা ঘুমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, খিটখিটে মেজাজ এবং মনোযোগের অভাব হতে পারে। যদি এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা থেকে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, কাজের ক্ষমতা হ্রাস এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু লোক রাতে অস্থিরতা বা উদ্বেগ অনুভব করতে পারেন, যা ঘুমকে আরও ব্যাহত করে। ঘুমের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা শীতকালে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য মোটেও ভালো নয়।
আরও পড়ুন : চিয়া বীজ ও বিটের রস খেলে মিলবে অসাধারণ উপকারিতা
এটি কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
- সন্ধ্যার পর চা ও কফি খাওয়া সীমিত করুন।
- রাতে ভেষজ চা বা গরম দুধ পান করুন।
- একটি নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী তৈরি করুন এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান।
- ঘুমের আগে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- দিনের বেলা পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ করুন এবং হালকা শারীরিক কার্যকলাপ করুন।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে, কোন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
