আপনি যে ডিমটি খাচ্ছেন তা কি তাজা নাকি পচা? ডিম না ভেঙেই এই ৬টি পদ্ধতির মাধ্যমে তা যাচাই করে নিন।

ডিম একটি সুপারফুড, যা প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে, নষ্ট বা পচা ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নষ্ট ডিম চেনার ছয়টি উপায় নিচে দেওয়া হলো।

3 Min Read

ডিম প্রোটিনের চমৎকার উৎস হলেও, নষ্ট বা পচা ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আজকাল বাজারে প্রায়ই পুরনো ডিম পাওয়া যায় এবং অনলাইনে ডিম অর্ডার করার ক্ষেত্রেও এমন সমস্যার কথা শোনা যায়। এছাড়া, ফ্রিজে দীর্ঘদিন রাখা ডিম খাওয়ার উপযোগী আছে কি না, তা বোঝা কঠিন হতে পারে। তাহলে, ডিম না ভেঙেই কীভাবে বুঝবেন সেটি খাওয়ার যোগ্য কি না?

ডিম না ভেঙেই এর সতেজতা যাচাই করতে চাইলে এই লেখাটি আপনার জন্য। জল ও আলোর মতো সাধারণ গৃহস্থালি উপকরণ বা অন্যান্য সহজ কৌশল ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি বুঝতে পারবেন ডিমটি খাওয়ার জন্য নিরাপদ কি না। এখানে এমন ছয়টি সহজ পদ্ধতি ও কৌশল দেওয়া হলো যা আপনাকে এ কাজে সাহায্য করবে।

জলে ভাসিয়ে পরীক্ষা করা

একটি গ্লাস বা বাটি ঠান্ডা জল দিয়ে পূর্ণ করুন এবং তাতে ডিমটি রাখুন। যদি ডিমটি ডুবে পাত্রের তলায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে এটি একদম তাজা। যদি ডিমটি সামান্য উপরের দিকে উঠতে শুরু করে, তবে বুঝতে হবে এটি পুরনো হতে শুরু করেছে। তবে ডিমটি যদি জলের উপরিভাগে ভেসে ওঠে, তবে তা ব্যবহার করা উচিত নয়; কারণ এর অর্থ হলো ডিমটি আর খাওয়ার উপযোগী নেই।

Know 6 ways to tell if an egg is rotten or good.

ঝাঁকিয়ে শব্দ শোনা

ডিমটি কানের কাছে নিয়ে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিম থেকে সাধারণত কোনো শব্দ আসে না। যদি ভেতর থেকে কোনো তরল নড়াচড়ার বা ছলছল শব্দ শোনা যায়, তবে বুঝতে হবে ডিমটি পুরনো এবং এর গুণমান নষ্ট হয়ে গেছে—অর্থাৎ এটি আর খাওয়ার উপযুক্ত নয়।

টর্চ বা আলোর সাহায্যে পরীক্ষা করা

উজ্জ্বল আলো বা টর্চ ব্যবহার করেও ডিম পরীক্ষা করা যায়। আলোর উৎসের সামনে ডিমটি ধরুন। এই পদ্ধতিটিকে বলা হয় “ক্যান্ডলিং” (candling)। তাজা ডিমের ক্ষেত্রে ভেতরের অংশ কম দৃশ্যমান হয়, অন্যদিকে পুরনো ডিমের ক্ষেত্রে বাতাসের থলি বা ‘এয়ার পকেট’ বড় দেখায়; এর মাধ্যমে ডিমের সতেজতা বোঝা সম্ভব।

ডিমের খোসা ভালোভাবে পরীক্ষা করা

তাজা ডিমের খোসা পরিষ্কার হয় এবং স্পর্শ করলে কিছুটা অমসৃণ বা খসখসে মনে হয়। ডিমের খোসায় যদি ফাটল, আঠালো ভাব বা গুঁড়ো গুঁড়ো আস্তরণ দেখা যায়, তবে তা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ডিমটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো।

আরও পড়ুন : গ্রীষ্মকালীন মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে এই সহজ পরামর্শগুলো মেনে চলুন

ডিম ভাঙার পর এর গঠন বা ঘনত্ব পরীক্ষা করুন

ডিম ভাঙার সময় এর কুসুম ও সাদা অংশটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। তাজা ডিমের কুসুম গোলাকার ও উঁচু হয়ে থাকে এবং সাদা অংশটি ঘন হয়। অন্যদিকে, পুরনো ডিমের কুসুম ছড়িয়ে পড়ে এবং সাদা অংশটি পাতলা বা জলীয় মনে হয়।

গন্ধ শুঁকে শনাক্ত করুন

নষ্ট ডিম চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর গন্ধ। ডিম ভাঙার পর যদি তীব্র ও দুর্গন্ধ—যেমন পচা সালফারের মতো গন্ধ—পাওয়া যায়, তবে তা অবিলম্বে ফেলে দিন। তাজা ডিমে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ থাকে না।

Share This Article