শীতকালে কিছু মানুষের ওজন নিজে থেকেই কেন বেড়ে যায়? এর জন্য শরীরের তিনটি হরমোন দায়ী। জানুন

3 Min Read

শীতকাল আসার সাথে সাথে অনেকেই লক্ষ্য করেন যে, খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিন রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তাদের ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। গরম কাপড় পরা, কম সূর্যালোক এবং অলস পরিবেশ শরীরের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এই ঋতুতে ক্ষুধা বৃদ্ধি, বেশি বিশ্রাম এবং শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু ওজন বৃদ্ধি সবসময় শুধু খাবার বা ব্যায়ামের অভাবের কারণে হয় না। প্রকৃতপক্ষে, শীতকালে শরীরের ভেতরে কিছু পরিবর্তন ঘটে যা ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে হরমোনের ভারসাম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শীতকালে শরীর নিজেকে গরম রাখতে এবং শক্তি সঞ্চয় করতে চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ায়, কিছু হরমোনের কার্যকারিতা পরিবর্তিত হতে পারে। এই হরমোনগুলো ক্ষুধা, শক্তির ব্যবহার এবং চর্বি জমা হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এদের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন ওজন বৃদ্ধি ঘটে। তাই, এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে ওজন বৃদ্ধি শুধুমাত্র অভ্যাসের কারণে নয়, বরং শরীরের ভেতরের হরমোনজনিত প্রক্রিয়ার কারণেও হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতকালে ওজন বৃদ্ধির জন্য কোন হরমোনগুলো দায়ী।

শীতকালে ওজন বৃদ্ধির জন্য কোন হরমোনগুলো দায়ী?

লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের ডা. এল. এইচ. ঘোটেকার ব্যাখ্যা করেন যে, শীতকালে ওজন বৃদ্ধির জন্য প্রধানত তিনটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমটি হলো লেপটিন, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। ঠান্ডায় এর কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ফলে পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও খাওয়ার ইচ্ছা থেকেই যায়। দ্বিতীয়টি হলো ঘ্রেলিন, যা ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোন।

শীতকালে এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগতে পারে। তৃতীয়টি হলো কর্টিসল, যা মানসিক চাপের সাথে সম্পর্কিত একটি হরমোন। ঠাণ্ডা আবহাওয়া, কম সূর্যালোক এবং দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তন কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে শরীর বেশি চর্বি জমা করে। এই তিনটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা একত্রিতভাবে ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

আরও পড়ুন : শীতকালে পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ? একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন

হরমোনের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখবেন?

আপনার হরমোনকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে একটি নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করা অপরিহার্য। সময়মতো ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত একটি সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা মেটাবলিজম উন্নত করে। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ:

  • প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।
  • জাঙ্ক ফুড এবং চিনিযুক্ত খাবার সীমিত করুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
  • আপনার শরীরের সংকেতগুলোর প্রতি মনোযোগ দিন এবং সেগুলোকে উপেক্ষা করবেন না।
  • প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Disclaimer: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে, কোন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

Share This Article
google-news