Table of Contents
মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সবকিছুর জন্যই স্ক্রিন ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড় বাঁকানো থাকে এবং চোখের উপর ক্রমাগত চাপ পড়ে। এর ফলে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ব্যথা এবং চোখে জ্বালাপোড়া বা ভারি ভাব হতে পারে। অনেকে প্রথমে এটিকে একটি ছোটখাটো সমস্যা বলে উপেক্ষা করেন, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে। তাই, কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি।
একটানা স্ক্রিন টাইম ঘুমের উপরও প্রভাব ফেলে এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সময়মতো এর সমাধান না করলে এই ব্যথা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি প্রতিরোধের জন্য কি কি অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ঘাড় ও চোখের ব্যথা প্রতিরোধের জন্য কি কি অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত?
লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের ডঃ এল.এইচ. ঘোটিকর ব্যাখ্যা করেছেন যে, ঘাড় এবং চোখের ব্যথা এড়াতে স্ক্রিন দেখার অভ্যাস পরিবর্তন করা অপরিহার্য। মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন এবং ঘাড় অতিরিক্ত বাঁকানো থেকে বিরত থাকুন। একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন এবং ঘন ঘন বিরতি নিন। চোখের আরামের জন্য স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সামঞ্জস্য করুন।
ফোন চোখের খুব কাছে ধরে রাখার অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়াও, কাজ করার সময় আপনার চেয়ার এবং টেবিলের উচ্চতা উপযুক্ত হওয়া উচিত। খারাপ অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, তাই দ্রুত সেগুলো সংশোধন করা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন : ঘন ঘন সর্দি, কাশি এবং সংক্রমণ, এগুলো কি দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ? জানুন
উপেক্ষা করলে কি কি রোগের ঝুঁকি থাকে?
দীর্ঘদিন ধরে ঘাড় এবং চোখের ব্যথা উপেক্ষা করলে তা গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। সার্ভিকাল ঘাড়ের ব্যথা, পেশীতে টান এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা বাড়তে পারে। দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়া, শুষ্ক চোখের সিন্ড্রোম এবং ঘন ঘন মাথাব্যথাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এই অভ্যাসগুলো গ্রহণ করুন:
- প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চোখকে বিশ্রাম দিন।
- মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
- হালকা ঘাড় এবং চোখের ব্যায়াম করুন।
- স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন।
- ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দিন।
