পেটে গ্যাস হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা যা অনেককেই মাঝেমধ্যে ভোগায়। এর ফলে পেট ফাঁপা, ভারী বোধ হওয়া, ঢেকুর ওঠা এবং সামগ্রিক অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যদিও মানুষ প্রায়শই একে কেবল খাদ্যাভ্যাসের সাথে সম্পর্কিত মনে করে, তবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও এর জন্য দায়ী হতে পারে—যদিও ব্যক্তিভেদে এর কারণ ভিন্ন হতে পারে।
পরিপাকতন্ত্র শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা খাবার হজম ও পুষ্টি শোষণের কাজ করে। হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানুষ প্রায়শই এর উপসর্গগুলোকে সামান্য মনে করে উপেক্ষা করে; কিন্তু সমস্যাটি যদি বারবার হতে থাকে, তবে জীবনযাপন বা খাদ্যাভ্যাস এর জন্য দায়ী হতে পারে। কোন অভ্যাসগুলো ঘন ঘন গ্যাস তৈরির কারণ হতে পারে এবং পরিপাকতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা বোঝা জরুরি।
কোন অভ্যাসগুলোর কারণে পেটে গ্যাস হতে পারে?
নয়ডার ফোর্টিস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. মহেশ গুপ্ত ব্যাখ্যা করেন যে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যাভ্যাস গ্যাস তৈরির সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনিয়মিত সময়ে খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি এবং খুব দ্রুত খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাসগুলো হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এছাড়া, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার এবং অত্যধিক মশলাদার বা ডুবো তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার সাথেও কারও কারও ক্ষেত্রে গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা জড়িত থাকতে পারে।
ডা. গুপ্ত উল্লেখ করেন যে, অন্ত্রের উপকারী ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বা ‘ইনটেস্টাইনাল ডিসবায়োসিস’-ও এর একটি কারণ হতে পারে। অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের (অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবের সমষ্টি) ভারসাম্য নষ্ট হলে হজমজনিত সমস্যা তীব্র হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি বারবার গ্যাসের সমস্যার পাশাপাশি পেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমি বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এছাড়া, গ্যাসের সমস্যা যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে বা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাতে শুরু করে, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন : উচ্চ রক্তে শর্করা কি ত্বক ও চুলের ক্ষতি করতে পারে? জেনে নিন
কীভাবে গ্যাস ও পেট ফাঁপা প্রতিরোধ করা যায়?
সুস্থ হজমশক্তি বজায় রাখতে সময়মতো খাবার খান এবং খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান। প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।
পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন এবং জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্ত ভাজা ও ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।