আপনি কি রোজ আটার রুটি খান? এতে কোনো বিপদ ডেকে আনছেন না তো !

অনেক পুষ্টিবিদ এবং ফিটনেস সচেতন মানুষ এখন খাদ্যতালিকা থেকে গমের আটা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, গমের আটা খেলে ওজন বৃদ্ধি, শরীরে চর্বি জমা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু আটার রুটি খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এটি কি সত্যিই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

3 Min Read

ভারতীয়দের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে গমের আটার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সকালের নরম রুটি থেকে রাতের গরম পরোটা—আটা ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিটনেস সচেতনদের মধ্যে সম্প্রতি ‘নো হুইট ফ্লাওয়ার’ (বা গম বর্জন)-এর একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক পুষ্টিবিদ এবং ফিটনেস সচেতন মানুষ এখন খাদ্যতালিকা থেকে গমের আটা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, গমের আটা খেলে ওজন বৃদ্ধি, শরীরে চর্বি জমা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু আটার রুটি খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এটি কি সত্যিই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

আপনিও যদি এই দ্বিধায় ভুগে থাকেন, তবে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। ফোর্টিস হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. শুভম ভাটসাল ব্যাখ্যা করেছেন যে, গমের আটা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে ভুল পরিমাণে বা ভুল পদ্ধতিতে এটি খেলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ঠিক কী বলছেন?

ডা. শুভম ভাটসাল জানান, আটা সবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে ভুলভাবে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন যে, আটা হলো একটি ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’ বা জটিল শর্করা, যাতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুটেন থাকে। তাই যাদের গ্লুটেন অ্যালার্জি বা সিলিয়াক ডিজিজ (celiac disease) আছে, তাদের গমের আটা এড়িয়ে চলা উচিত।

আটার রুটি কেন ক্ষতিকর হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে তিনবার বা অতিরিক্ত পরিমাণে আটার রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে ওজন বাড়তে পারে এবং এটি ফ্যাটি লিভারের একটি প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : তামাক বা ধূমপান ছাড়ার ৪টি উপায় এবং ৬টি সতর্কবার্তা যা উপেক্ষা করা উচিত নয়

তাহলে, গমের আটা খাওয়ার সঠিক উপায় কী?

এর মানে এই নয় যে আপনাকে খাদ্যতালিকা থেকে গমের আটা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। আপনি স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে পারেন। গমের আটার সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টিকর শস্যের আটা মিশিয়ে নিলে সামগ্রিক গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে গমের আটার সাথে জোয়ারের (sorghum) আটা মিশিয়ে রুটি তৈরির চেষ্টা করুন; এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে: শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে গমের আটার সাথে বাজরার (pearl millet) আটা মেশানো অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

রক্তাল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি মোকাবিলায়: আপনি যদি রক্ত​বা আয়রনের অভাবে ভুগে থাকেন, তবে রাগির (finger millet) আটা মেশানোই হবে সেরা উপায়।

জোয়ার, বাজরা এবং রাগি—এসবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। গমের আটার সাথে এগুলি মিশিয়ে ‘মাল্টিগ্রেইন’ বা মিশ্র শস্যের আটা তৈরি করলে তা কেবল দ্রুত ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, বরং প্রোটিন ও আয়রনের ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করে। তাই গমের আটা পুরোপুরি বর্জন না করে বরং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনুন—এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে!

Share This Article