প্রস্রাবে রক্ত​কেন দেখা যায়? এটি কি কিডনি রোগের লক্ষণ? একজন বিশেষজ্ঞের কাছে জানুন

প্রস্রাব করার সময় যদি আপনি একবার বা দুবার প্রস্রাবে রক্তের সামান্য উপস্থিতি লক্ষ্য করে থাকেন, তবে সাধারণত তা উদ্বেগের কারণ নয়; তবে, যদি টানা দুই বা তিন দিন ধরে এমনটা ঘটতে থাকে, তবে এটি শরীরের ভেতরের কোনো সুপ্ত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এ বিষয়ে একজন চিকিৎসক কি বলছেন।

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

যদি আপনি আপনার প্রস্রাবে রক্ত​দেখে থাকেন—এবং এই অবস্থা যদি দুই থেকে তিন দিন ধরে অব্যাহত থাকে—তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি শরীরের অভ্যন্তরে ‘হেমাচুরিয়া’ (প্রস্রাবে রক্ত​আসা)-এর একটি লক্ষণ হতে পারে। প্রস্রাবে রক্ত ​​আসার পেছনে সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো কিডনি, মূত্রনালী বা মূত্রথলি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, এটি কিডনি রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করতে পারে। প্রস্রাবে রক্ত​কেন আসে? এমন পরিস্থিতিতে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? চলুন জেনে নিই একজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে।

যদি আপনার প্রস্রাবে মাত্র একবার বা দুবার রক্ত​দেখা দিয়ে থাকে, তবে তা কোনো মৃদু সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে, যদি এমনটা বারবার ঘটতে থাকে, তবে তা কিডনিতে পাথরের (Kidney stones) লক্ষণ হতে পারে। কিডনির পাথর মূত্রনালীর—অর্থাৎ কিডনি ও মূত্রথলির সংযোগকারী পথের—ক্ষতিসাধন করতে পারে, যার ফলে রক্তপাত ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে, এই লক্ষণটি ‘মূত্রনালীর সংক্রমণ’ বা ইউটিআই (UTI)-এর কারণেও দেখা দিতে পারে। এর কারণ হলো, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ফলে মূত্রথলির আশেপাশে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে, যার পরিণামে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেয়।

প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?

দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হিমাংশু ভার্মা ব্যাখ্যা করেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি ঘন ঘন প্রস্রাবে রক্ত​আসার সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তা কিডনি বা মূত্রথলিতে টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। যদি প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতির পাশাপাশি প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, কিংবা পিঠের নিচের অংশে বা পেটের নিচের দিকে ব্যথা হয়, তবে এই লক্ষণগুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এগুলো শরীরের কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এর কারণ হলো, রোগটি যদি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, তবে তা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়; কিন্তু রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হলে রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে। বস্তুত, এমন অনেক ঘটনাই দেখা যায় যেখানে রোগীরা শুরুতে এই লক্ষণগুলোর তীব্রতাকে উপেক্ষা করেন কিংবা গুরুত্ব সহকারে নেন না। মানুষ প্রায়ই চিকিৎসার শরণাপন্ন হতে অবহেলা করে; আর যখন তারা চিকিৎসার জন্য যায়, ততক্ষণে তাদের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : শরীরে ফোলাভাব কি কিডনি বিকলতার লক্ষণ হতেপারে? জানুন

প্রতিরোধের জন্য করণীয়:

  • প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার জল পান করুন।
  • অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • আপনার ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article