Table of Contents
শীতকালে মানুষের তৃষ্ণা কম পায়, যার কারণে অনেকে কম জল পান করতে শুরু করেন। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ঘাম কম হয়, তাই শরীর জলের প্রয়োজন অনুভব করে না, কিন্তু এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান না করলে শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়, যা সরাসরি কিডনি এবং মূত্রতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এতে কিডনিতে পাথর এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউটিআই) ঝুঁকি বাড়ে। চলুন জেনে নিই, শীতকালে কম জল পান করলে কেন কিডনিতে পাথর এবং ইউটিআই-এর ঝুঁকি বাড়ে এবং এর লক্ষণগুলো কি কি।
কম জল পান করলে কিডনিতে পাথর এবং ইউটিআই-এর ঝুঁকি কীভাবে বাড়ে?
লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের ডঃ এল.এইচ. ঘোটকর ব্যাখ্যা করেন যে, যখন শরীর পর্যাপ্ত জল পায় না, তখন প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। ঘন প্রস্রাবে থাকা খনিজ পদার্থগুলো সহজে শরীর থেকে বের হতে পারে না, যার ফলে কিডনিতে পাথর তৈরি হয়। এছাড়াও, কম প্রস্রাবের কারণে মূত্রনালীতে ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে, যা ইউটিআই-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
শীতকালে ঠাণ্ডার কারণে মানুষ কম টয়লেটে যেতে চায়, যা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দীর্ঘক্ষণ শরীরে জলের অভাব থাকলে কিডনির উপর বেশি চাপ পড়ে, শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয় এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাও বাড়ে।
লক্ষণগুলো কি কি?
কিডনিতে পাথরের লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে কোমর বা পেটের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবের সাথে রক্তএবং বমি বমি ভাব বা বমি। ইউটিআই-এর ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, দুর্গন্ধযুক্ত বা ঘোলাটে প্রস্রাব এবং জ্বর হতে পারে।
মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী এবং যারা ইতিমধ্যেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। যারা শীতকালে কম জল পান করেন, তাদেরও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
আরও পড়ুন : বাদামের ভেতরের লাল খোসা সহ খাওয়া কি ঠিক না ভুল? বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিন।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়:
- সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন।
- তৃষ্ণা না পেলেও জল পান করার অভ্যাস করুন।
- হালকা গরম জল পান করা উপকারী হতে পারে।
- প্রস্রাব চেপে রাখবেন না।
- আপনার খাদ্যতালিকায় স্যুপ এবং অন্যান্য তরল খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।
- অতিরিক্ত চা এবং কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।
- আপনার প্রস্রাবের রঙের দিকে মনোযোগ দিন; গাঢ় রঙ শরীরে জলের অভাব নির্দেশ করতে পারে। আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।