Table of Contents
বাদাম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত বিশেষ অংশ। শীতকালে বাদাম খাওয়ার মজাই আলাদা। কখনও ভাজা, কখনও গুড়ের সাথে, আবার কখনও শুধু ভেজেই খাওয়া হয়। কিন্তু বাদাম খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষই এর ভেতরের লাল খোসাটি ফেলে দিয়ে খান। অন্যদিকে, কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন যে লাল খোসাসহ বাদাম খাওয়া উপকারী। এতে প্রায়শই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে যে, বাদামের ভেতরের লাল খোসাটি কতটা পুষ্টিকর বা উপকারী? বাদাম কি ভেতরের লাল খোসা (পাতলা স্তর) সহ খাওয়া উচিত নাকি খোসা ছাড়া?
বাড়ির বড়রা প্রায়ই বলেন যে লাল খোসা পেটের জন্য ভারী বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে আসল শক্তি এই খোসার মধ্যেই রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটেও এটি নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়, যা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই, আসুন এই নিবন্ধে আমরা এই বিভ্রান্তি দূর করি।
বাদামের লাল খোসা পুষ্টিগুণে ভরপুর
বাদামের ভেতরের লাল খোসা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন। তাই বাদাম খাওয়ার সময় সাধারণত মানুষ এটি ফেলে দেয়। কিন্তু এটি শুধু একটি স্তর নয়, এটি পুষ্টির ভান্ডার। এটি নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। কেউ বলেন এটি গ্যাস বা পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে, আবার কেউ বলেন যে এর মধ্যেই আসল শক্তি নিহিত। এর পুষ্টিগুণের কথা বলতে গেলে, এতে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন (E, B6) এবং খনিজ পদার্থের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?
জয়পুরের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডঃ কিরণ গুপ্তা ব্যাখ্যা করেছেন যে বাদামের লাল খোসা উপকারী। কিছু লোক এটি ফেলে দেয়, কিন্তু তাদের এমনটা করা উচিত নয়। বাদাম সবসময় লাল খোসাসহ খাওয়া উচিত। লাল খোসায় পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও, এতে থাকা ফাইবারের কারণে এটি হজমশক্তিও উন্নত করে। তবে, লাল খোসাসহ অতিরিক্ত পরিমাণে বাদাম খেলে গ্যাসের মতো সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুন : ভিটামিন B12 কেন গুরুত্বপূর্ণ, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কি বলছেন? জেনে নিন
লাল খোসার উপকারিতা কি কি? চিনাবাদামের লাল খোসা হজমশক্তি উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
কারা এটি এড়িয়ে চলবেন?
ডাক্তার কিরণ গুপ্তা ব্যাখ্যা করেন যে, যদিও এই খোসাটি উপকারী, তবে কিছু লোকের এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার থাইরয়েডের সমস্যা থাকে, তবে এই লাল খোসাটি ক্ষতিকর হতে পারে কারণ এতে গোয়ট্রোজেনিক যৌগ থাকে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়াও, যদি আপনার ঘন ঘন গ্যাসের সমস্যা হয়, তবে আপনার এটি এড়িয়ে চলা উচিত।
