Table of Contents
আজকের ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তির ছাপ সবার আগে চোখের নিচেই পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি চোখের নিচে কালি দেখতে পান, তবে আপনার দিনটি শুরু হয় দুশ্চিন্তা দিয়ে। ডার্ক সার্কেল এখন আর শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়; তরুণ, ছাত্রছাত্রী এমনকি শিশুরাও এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, রাত জাগা এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ডার্ক সার্কেল নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।
কেউ বলেন যে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ডার্ক সার্কেল হয়, আবার কেউ বিশ্বাস করেন যে পর্যাপ্ত ঘুমালেই এটি নিজে থেকেই সেরে যাবে। কেউ কেউ ঘরোয়া টোটকার ওপর অন্ধভাবে ভরসা করেন, আবার কেউ কেউ দামি ক্রিম এবং চিকিৎসাকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেন। এই প্রবন্ধে একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে ডার্ক সার্কেল সম্পর্কিত এই ভুল ধারণাগুলোর পেছনের সত্যতা জেনে নেওয়া যাক।
বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ ইশিতা পণ্ডিত ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো ঘুমের অভাবের কারণে ডার্ক সার্কেল হয়। কিন্তু এটি পুরোপুরি সত্যি নয়। কখনও কখনও এটি বংশগত হতে পারে। এছাড়াও, চোখের চারপাশের ত্বক পাতলা হওয়া, পিগমেন্টেশন, সাইনাসের সমস্যা বা অ্যালার্জির কারণেও এটি হতে পারে।
ভুল ধারণা ২ – ক্রিম লাগালেই ডার্ক সার্কেল চলে যায়
বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষ মনে করে ক্রিম লাগালেই ডার্ক সার্কেল চলে যায়। কিন্তু এটা সত্যি নয়… ডার্ক সার্কেল দূর করতে হলে এর কারণ বোঝা প্রয়োজন। কারণ না জেনে আপনি যেকোনো ক্রিম লাগাতে পারেন না।
ভুল ধারণা ৩ – ঘরোয়া টোটকা কার্যকর
মানুষ বিশ্বাস করে যে আলুর রস, লেবুর রস বা টমেটোর রস লাগালে ডার্ক সার্কেল দূর হয়। কিন্তু এটা সত্যি নয়… এই ঘরোয়া টোটকাগুলো কেবল ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়। এগুলো আপনার সমস্যার সমাধান করে না। বরং, এগুলো লাগানোর ফলে ত্বকে অ্যালার্জি পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন : রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সুস্থ হৃদপিণ্ড পর্যন্ত… জানুন ৬-৬-৬ হাঁটার নিয়ম সম্পর্কে
ভুল ধারণা ৪ – ডার্ক সার্কেল শুধুমাত্র পিগমেন্টেশনের কারণে হয়
কিছু লোক মনে করে যে ডার্ক সার্কেল শুধুমাত্র পিগমেন্টেশনের কারণেই হয়। কিন্তু সত্যিটা বেশ ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে ডার্ক সার্কেল শুধু পিগমেন্টেশনের কারণে হয় না। চোখের নিচে গর্ত হওয়া, বার্ধক্য বা ভলিউম কমে যাওয়ার কারণেও ডার্ক সার্কেল হতে পারে। এগুলো সবই ডার্ক সার্কেলের কারণ।
ধারণা ৫ – চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার পদ্ধতিগুলো অনিরাপদ
ইশিতা পণ্ডিত ব্যাখ্যা করেন যে, কিছু লোক বিশ্বাস করে যে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার পদ্ধতিগুলো অনিরাপদ। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আপনি যদি একজন প্রশিক্ষিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন, তবে এই পদ্ধতিগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। লেজার, পিআরপি ফিলার (প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা) এবং স্কিন বুস্টারের মতো চিকিৎসাগুলো আপনাকে ভালো ফলাফল দেবে এবং এগুলো নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
