শীতকালে মানুষ বেশি গরম জল পান করে। মানুষ স্টিলের বোতল, কাঁচের বোতল এবং তামার বোতল ব্যবহার করে। তামার পাত্রের জল শরীরের জন্য উপকারী। এই জল পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা এবং গাঁটের ব্যথা উপশমে সাহায্য করতে পারে। আজকাল অফিসগামী মানুষ এবং স্কুলে যাওয়া শিশুরা প্লাস্টিকের বোতলে জল পান করে। শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য প্লাস্টিক নাকি তামার জল ভালো? বিশেষজ্ঞরা প্লাস্টিক ও তামার জলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন।
প্লাস্টিকের বোতলের জল ক্ষতিকর:
আজকাল প্লাস্টিকের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ প্লাস্টিকের বোতলে জল পান করে। কিন্তু প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্লাস্টিকে BPA-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে যা জলে মিশে যায় এবং ক্যান্সারের মতো রোগের কারণ হতে পারে। প্লাস্টিক বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হয় না, যা দূষণ বাড়ায়। যদি একটি প্লাস্টিকের বোতল রোদে বা গরম জায়গায় রাখা হয়, তবে এটি থেকে আরও বেশি বিষাক্ত উপাদান নির্গত হয়।
তামার বোতলে জল পানের উপকারিতা:
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দৈনন্দিন জীবনে যতটা সম্ভব প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। তামার বোতলের জল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি প্রাকৃতিকভাবে তামার জলে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। এই জল পান করলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস এবং হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং গাঁটের ব্যথায় সাহায্য করে। নিয়মিত এই জল পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। এটি ত্বককে সুস্থ রাখে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।
প্লাস্টিক নাকি তামা, কোন বোতলের জল সেরা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্লাস্টিকের বোতলের জলই নয়, অন্যান্য জিনিসেও প্লাস্টিকের ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করে। প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে গুরুতর রোগ হতে পারে। স্বাস্থ্যের দিক থেকে তামার বোতল সবচেয়ে ভালো। রাতে তামার পাত্রে জল ভরে রেখে সকালে সেই জল পান করা সবচেয়ে উপকারী।
আরও পড়ুন : চুল পড়ার মহৌষধ, প্রতিদিন সকালে পান করুন এই ‘জাদুকরী পানীয়’
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা:
তামার জল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। যদি তামার বোতলটি ভেতর থেকে নোংরা থাকে, তবে সেই জল পান করলে আমরা রোগের শিকার হতে পারি। তাই এই বোতলটি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তামার বোতল বা তামার পাত্রে কখনও লেবুর শরবত বা টক জিনিস ভরবেন না। কারণ এটি খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।