Table of Contents
শীতকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়াকে সবচেয়ে ভীতিকর মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়, যখন আপনাকে আপনার উষ্ণ কম্বল ছেড়ে আরামদায়ক হিটারের কাছ থেকে সরে এসে ঠান্ডা বাথরুমে যেতে হয়। আর যদি কোষ্ঠকাঠিন্য(Constipation) দেখা দেয়, তবে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ এবং কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। উপরন্তু, যদি আপনি ঠান্ডা মাসগুলোতে সঠিক সতর্কতা অবলম্বন না করেন, তবে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে পারেন, যা আপনাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে অস্বস্তিতে রাখবে।
শীতের মাসগুলোতে কী কারণে মানুষ কোষ্ঠকাঠিন্যের(Constipation) মতো পেটের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়, তা বোঝার জন্য এইচটি লাইফস্টাইল মুম্বাইয়ের স্যার এইচ.এন. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল এন্ডোস্কোপির অতিরিক্ত পরিচালক ডঃ সানিল পারেখের সাথে কথা বলেছে।
আসুন, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে মৌসুমী কারণগুলো এবং আপনার হজম প্রক্রিয়াকে আরামদায়ক রাখার জন্য সহজ পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য কেন বাড়ে?
ডঃ পারেখের মতে, শীতকাল আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে, যা আপনার হজম প্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের কার্যকারিতার জন্য দায়ী।
এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে, ঠান্ডা জলের কারণে মানুষ কম জল পান করে, যা ডিহাইড্রেশন এবং মল শক্ত হওয়ার কারণ হয়; ঠান্ডা আবহাওয়া সাধারণত মানুষকে আরও অলস করে তোলে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।”
জল পানের অভ্যাসের পরিবর্তন ছাড়াও, খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আসে। তিনি বলেন, “শীতকালে খাবার ভারী ও চর্বিযুক্ত হয় এবং তাজা ফল ও সবজি কম খাওয়া হয়, যা ফাইবারের গ্রহণ কমিয়ে দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ায়।”
শীতকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের ৬টি টিপস
কিন্তু শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্যের(Constipation) ঝুঁকি কমানো কোনো রকেট সায়েন্স নয়; এটি আসলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলার বিষয়। অভ্যাসের পরিবর্তনই পেটের অস্বস্তি দেখা দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
এখানে ডঃ পারেখের শেয়ার করা কিছু টিপস রয়েছে, যা জল পান থেকে শুরু করে ফাইবার গ্রহণ পর্যন্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেছে:
১. শরীরকে আর্দ্র রাখুন
- বাইরে ঠান্ডা থাকলেও, শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল পান করা জরুরি। শরীরে জলের অভাব হলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং তা ত্যাগ করা কঠিন হতে পারে।
- আপনার তৃষ্ণা না পেলেও প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার জল পান করুন। খাদ্যতালিকায় ভেষজ চা, স্যুপ এবং ব্রথের মতো গরম তরল খাবার যোগ করুন, যা শরীরকে তরলের মাত্রা বজায় রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে।
- অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন কারণ এই ধরনের পদার্থ আপনার শরীরকে জল শূন্য করে তোলে।
আরও পড়ুন : কোনো রাসায়নিক নেই, কোনো প্রিজারভেটিভ নেই… ঘরেই তৈরি করুন খাঁটি নারকেল তেল
২. আপনার খাদ্যতালিকায় ফাইবার যোগ করুন
- এটি হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কারণ এটি মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করে।
- তাজা ফল হিসেবে আপেল, কমলা, পেয়ারা এবং নাশপাতি অন্তর্ভুক্ত করুন।
- গাজর, বিট, পালংশাক এবং বাঁধাকপির মতো ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি খান।
- ওটস, ব্রাউন রাইস এবং কুইনোয়ার মতো গোটা শস্য অন্তর্ভুক্ত করুন।
৩. শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন
- এমনকি মাঝারি ব্যায়ামও আপনার অন্ত্রকে দক্ষতার সাথে কাজ করতে সাহায্য করে হজমশক্তি বাড়াতে পারে।
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিংয়ের মতো কার্যকলাপের লক্ষ্য রাখুন।
৪. একটি নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন
- হজমতন্ত্র সাধারণত রুটিনের উপর নির্ভর করে ভালোভাবে কাজ করে, তাই নিয়মিত সময়ে খাবার খান।
- মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বাথরুমের রুটিন তৈরি করুন।
আরও পড়ুন : ক্রমাগত ঘাড় ব্যথা শুধু সার্ভিকাল নয়, এটি হতে পারে ভিটামিনের অভাবের লক্ষণ
৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করুন
- প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এবং ফাস্ট ফুডে ফাইবারের পরিমাণ খুব কম থাকে, বা একেবারেই থাকে না।
- চিপস, মিষ্টি স্ন্যাকস এবং ভাজা খাবারের পরিবর্তে ভাজা বাদাম, তাজা ফল বা হোল-গ্রেইন ক্র্যাকার খান।
- যখনই সম্ভব, তাজা, অপ্রক্রিয়াজাত উপাদান ব্যবহার করে বাড়িতে খাবার তৈরি করুন।
৬. প্রাকৃতিক প্রতিকারের কথা ভাবুন
- যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে যায়, তবে কিছু ঘরোয়া এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার সাহায্য করতে পারে।
- আলুবোখারা একটি প্রাকৃতিক, হালকা রেচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পেঁপে, লেবুর জল এবং ঘিও এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।
সুতরাং শীতকালে, আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আপনি যদি আপনার স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলো বজায় রাখেন, তবে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো মৌসুমী সমস্যা প্রতিরোধে আপনি ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে, কোন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
