Table of Contents
শীতকালে অনেকেরই পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়। এমনকি মোটা মোজা পরার পরেও বা কম্বল দিয়ে পা ঢেকে রাখলেও ঠাণ্ডা কমে না। এটিকে প্রায়শই আবহাওয়ার প্রভাব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু কখনও কখনও প্রশ্ন জাগে যে এটি অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে কিনা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকে।
যদিও পা ঠাণ্ডা হওয়া সব সময় ডায়াবেটিসের লক্ষণ নয়, তবে যদি এই সমস্যাটি দীর্ঘ দিন ধরে থাকে, বারবার হয়, বা এর সাথে অন্য কোনো শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। চলুন, এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নিই।
শীতকালে পা ঠাণ্ডা হওয়া কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ?
লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের ডা. এল. এইচ. ঘোটেকার ব্যাখ্যা করেন যে, ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেশি থাকলে তা স্নায়ু এবং রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে। পায়ে অসাড়তা, ঝিঁঝিঁ ধরা, জ্বালাপোড়া বা ঠাণ্ডা লাগা ডায়াবেটিসের একটি লক্ষণ হতে পারে। অনেকে গরম এবং ঠাণ্ডার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। এছাড়াও, ঘন ঘন পায়ে ব্যথা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া বা বিনা কারণে ক্লান্তিও ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
শীতকালে এই লক্ষণগুলো আরও খারাপ হতে পারে, কারণ ঠাণ্ডায় রক্তচলাচল ধীর হয়ে যায়। যদিও শুধু পা ঠাণ্ডা হওয়া ডায়াবেটিস নিশ্চিত করে না, তবে এর সাথে যদি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা হঠাৎ ওজন পরিবর্তনের মতো লক্ষণ থাকে, তবে পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়াও কি পা ঠাণ্ডা হওয়ার কারণ হতে পারে?
পা ঠাণ্ডা হওয়া শুধু ডায়াবেটিসের নয়, রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়ারও একটি লক্ষণ হতে পারে। যখন পায়ে পর্যাপ্ত রক্তসরবরাহ হয় না, তখন পা ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, ধূমপান বা বার্ধক্যের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুন : বাসি ভাত খাওয়া কি ঠিক না ভুল? বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন, জেনে নিন
শীতকালে শিরাগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে রক্তচলাচল আরও কমে যায়। এর কারণে পায়ের ত্বক ঠাণ্ডা, ফ্যাকাশে বা নীলচে দেখায়। কখনও কখনও হালকা ব্যথা বা পেশিতে টানও অনুভূত হতে পারে। যদি ঠাণ্ডার সাথে পায়ে ভারি ভাব বা হাঁটতে অসুবিধা হয়, তবে এটিকে উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন?
- সব সময় পা ঢেকে রাখুন এবং গরম মোজা পরুন।
- প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করুন।
- দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করান।
- ধূমপান থেকে দূরে থাকুন।
- আপনার পা পরিষ্কার রাখুন এবং যত্ন নিন।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে, কোন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
