উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা উচিত? বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন জানুন

উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য প্রায়ই ডিমের কুসুমকে দায়ী করা হয়, কিন্তু সত্যিই কি এর জন্য কুসুম দায়ী? ডিম কীভাবে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং কতটা খাওয়া নিরাপদ, তা ব্যাখ্যা করেছেন একজন বিশেষজ্ঞ।

4 Min Read

দীর্ঘদিন ধরেই কোলেস্টেরল নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিম; তাই অনেকে দ্বিধায় ভোগেন যে ডিম খাবেন নাকি এড়িয়ে চলবেন। ডিমের কুসুম খাওয়ার আগে আপনি যদি কখনও দ্বিধায় ভুগে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—এক্ষেত্রে আপনি একা নন। বছরের পর বছর ধরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য ডিমের কুসুমকে দায়ী করা হয়েছে। এখন প্রশ্নটি কেবল ডিমে কতটা কোলেস্টেরল থাকে তা নিয়ে নয়, বরং এটি কীভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে। তাহলে, উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি সত্যিই কুসুম বাদ দেওয়া উচিত? আসুন, বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

একটি ডিমের কুসুমে কতটা কোলেস্টেরল থাকে?

প্রাকৃতিকভাবেই ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে। প্রকৃতপক্ষে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলে প্রায়ই এমন ধারণা তৈরি হয় যে, ডিমের কুসুম খেলে খুব দ্রুতই নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি কোলেস্টেরল গ্রহণ করা হয়ে যেতে পারে। তবে, কেবল কোলেস্টেরল গ্রহণ করলেই যে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়।

ডিমের কুসুম খেলে কি রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে?

এখানেই বিজ্ঞানের বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের মতে, ডিমের মতো খাবার থেকে প্রাপ্ত কোলেস্টেরল অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় না। গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ক্ষেত্রে খাদ্যের কোলেস্টেরলের চেয়ে ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ বা সম্পৃক্ত চর্বি অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।

সহজ কথায়, ডিমের মতো কোলেস্টেরলের প্রাকৃতিক উৎসের তুলনায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অনেক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এর অর্থ হলো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কেবল ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই হয়তো সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়।

ডিম কেবল কোলেস্টেরলের উৎস নয়—এর আরও অনেক গুণ রয়েছে

ডিমকে প্রায়ই কেবল কোলেস্টেরলের উৎস হিসেবে ভুল বোঝা হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এতে রয়েছে প্রচুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের মতে, ডিম ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের এক চমৎকার উৎস; এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বিভিন্ন বি-ভিটামিন (যেমন B2), ফোলেট এবং সেলেনিয়াম। সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখার ক্ষেত্রে এই পুষ্টি উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুসুম পুরোপুরি বাদ দিলে আপনি হয়তো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন : যে ৭টি ফল কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়—অধিকাংশ মানুষই এই ভুলটি করেন

নিরাপদে কতগুলো ডিম খাওয়া যায়?

মূল বিষয়টি হলো ভারসাম্য ও পরিমিতি বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী:

  • একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন নিরাপদে ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ২টি কুসুম খেতে পারেন।
  • যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তারাও প্রতিদিন ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ১টি কুসুম খাওয়ার মাধ্যমে খাদ্যতালিকায় ডিম রাখতে পারেন।

পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের মতে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমা হওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই ডিমের পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব।

ডিমের কুসুম কি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত?

সহজ উত্তর হলো—না। অধিকাংশ মানুষের জন্যই, এমনকি যাদের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হচ্ছে তাদের জন্যও, ডিমের কুসুম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমানো এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। সঠিক পরিমাণে খেলে ডিম একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের মূল্যবান অংশ হতে পারে।

Share This Article