Table of Contents
অনেকেরই সারাদিন ধরে কম জল পান করার অভ্যাস থাকে। ব্যস্ত জীবনযাপন, কাজের চাপ এবং তৃষ্ণা না পাওয়া এর প্রধান কারণ। প্রায়শই, লোকেরা এটিকে স্বাভাবিক বলে মনে করে এবং এর প্রতি মনোযোগ দেয় না, কিন্তু পর্যাপ্ত জল না পেলে বেশ কিছু গুরুতর সমস্যা হতে পারে। জল শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, কিন্তু যখন এর পরিমাণ অপর্যাপ্ত হয়, তখন শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে, লক্ষণগুলি হালকা হতে পারে, যা লোকেরা উপেক্ষা করে। ধীরে ধীরে, এই সমস্যাটি বাড়তে পারে এবং কিডনি পাথরের কারণ হতে পারে।
তাই, কম জল পান করার অভ্যাসকে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে কম জল পান করার অভ্যাস কিডনি পাথরের কারণ হয়, এর লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়গুলো কি কি।
কম জল পান করার অভ্যাস কীভাবে কিডনি পাথরের কারণ হয়?
সফদরজং হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের ডা. হিমাংশু ভার্মা ব্যাখ্যা করেন যে, যখন শরীরে পর্যাপ্ত জল পৌঁছায় না, তখন প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে কিডনিতে উপস্থিত খনিজ এবং লবণগুলো সঠিকভাবে শরীর থেকে বের হতে পারে না এবং ধীরে ধীরে জমা হতে শুরু করে। এই জমা হওয়া উপাদানগুলোই অবশেষে কিডনি পাথরের আকার ধারণ করে।
ক্রমাগত কম জল পান করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। যারা অতিরিক্ত ঘামেন, খুব কম তরল পান করেন, বা যাদের খাদ্যাভ্যাসে লবণ ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়াও, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখা এবং শীতকালে কম জল পান করাও কিডনি পাথরের ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরও পড়ুন : শীতকালে গর্ভবতী মহিলাদের কতটা জল পান করা উচিত? জানালেন চিকিৎসক
জলশূন্যতার লক্ষণগুলো কি কি?
যখন শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে, তখন এটি বেশ কিছু লক্ষণ দেখাতে শুরু করে। ঘন ঘন ক্লান্তি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং মাথাব্যথা এর সাধারণ লক্ষণ। গাঢ় হলুদ প্রস্রাবও জলশূন্যতার একটি লক্ষণ হতে পারে। কিছু লোকের মাথা ঘোরা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।
যদি জলশূন্যতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে এটি কিডনির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং পেট বা কোমরের নিচের অংশে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়:
- সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন।
- তৃষ্ণা না পেলেও জল পান করার অভ্যাস করুন।
- শীতকালেও জলের পরিমাণ কমাবেন না।
- অতিরিক্ত লবণ এবং জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন।
- প্রস্রাব চেপে রাখা থেকে বিরত থাকুন।
- সমস্যা বাড়লে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
