পিরিয়ডের সময় আপনার খাদ্যাভ্যাসের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের উপরই প্রভাব ফেলে। অনেক মহিলার ব্যথা বৃদ্ধি, পেটে ব্যথা, ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং মেজাজের পরিবর্তন অনুভব হয়। কেউ কেউ মাথাব্যথা বা পিঠে ব্যথাও অনুভব করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে, সঠিক যত্ন এবং সুষম খাদ্য শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
যদি ডায়েট অবহেলা করা হয়, তাহলে দুর্বলতা এবং বিরক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। অতএব, এই সময়ে আপনার শরীরের চাহিদা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। হালকা, পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার খাওয়া শক্তি বজায় রাখতে এবং অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাহলে, আসুন জেনে নেওয়া যাক আপনার পিরিয়ডের সময় কোন খাবারগুলো উপকারী।
পিরিয়ডের সময় কোন খাবারগুলো উপকারী?
আরএমএল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সালোনি চাড্ডা ব্যাখ্যা করেন যে মাসিকের সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার উপকারী, কারণ শরীর রক্তাল্পতা অনুভব করতে পারে। সবুজ শাকসবজি, ডালিম, বিট এবং ডাল ভালো পছন্দ। দুধ, দই, বাদাম এবং তিলের মতো ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার ব্যথা এবং খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কলা এবং ওটসের মতো হালকা এবং শক্তিদায়ক খাবার শক্তি প্রদান করে। আদা এবং হলুদের দুধ ফোলা কমাতে সাহায্য করতে পারে। হাইড্রেটেড থাকার এবং ফোলা কমাতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। তদুপরি, স্যুপ এবং হালকা, ঘরে রান্না করা খাবার হজম করা সহজ এবং পেটকে প্রশমিত করে।
আরও পড়ুন : বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর কি প্রভাব পড়ে? জানুন
মাসিকের সময় কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?
মাসিকের সময় উচ্চ লবণ, ভাজা এবং মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি পেট ফাঁপা এবং পেট ব্যথা বাড়াতে পারে। কফি এবং ঠান্ডা পানীয়ের মতো উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত খাবার উদ্বেগ এবং অস্থিরতা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত চিনি খাওয়াও মেজাজের পরিবর্তন এবং ক্লান্তি বাড়াতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ
মাসিকের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অপরিহার্য। হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। চাপ কমানোর চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। যদি প্রতি মাসে ব্যথা তীব্র বা অসহনীয় হয়, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আপনার শরীরের সংকেত উপেক্ষা করবেন না এবং নিজের যত্নকে অগ্রাধিকার দেবেন।