সন্তান প্রসবের পর মায়েদের হতে পারে ৫টি স্বাস্থ্য সমস্যা, জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

সন্তান প্রসবের পর নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চলুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে জেনে নেওয়া যাক—এই সমস্যাগুলো কি, কেন ঘটে এবং কীভাবে এগুলোর মোকাবিলা করা সম্ভব।

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

নারীদের জন্য কেবল গর্ভাবস্থায়ই নয়, বরং সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়েও নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানান যে, সন্তান প্রসবের পরেও একজন নারীর শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে থাকে। শরীরের এই চলমান পরিবর্তনগুলোর ফলে নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রসবের পর নারীরা যেসব নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হন—সেগুলোর লক্ষণ, কারণ এবং প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে।

থাইরয়েডজনিত সমস্যা

সন্তান জন্মদানের পর নারীদের থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘পোস্টপার্টাম থাইরয়েডাইটিস’ (Postpartum Thyroiditis)। এর লক্ষণ হিসেবে ক্লান্তি, মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন এবং শরীরের ওজনের ওঠানামা (ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া)—ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থার পরেও নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সন্তান প্রসবের তিন মাসের মধ্যে একবার থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পিঠ ও হাড়ের জোড়ায় ব্যথা: একটি সাধারণ সমস্যা

গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরের অঙ্গভঙ্গিতে যে পরিবর্তন আসে, তার শারীরিক প্রভাব অনেক সময় সন্তান প্রসবের পরেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। শিশুকে কোলে নেওয়া, শিশুকে স্তন্যপান করানোর নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে বসে থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব—এর মতো বিষয়গুলো এই ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে প্রসবের পরেও ওজন বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে; এর ফলে পিঠ থেকে শুরু করে হাঁটু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীদের মূত্রনালী বা প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দিতে পারে; সাধারণত পেলভিক বা শ্রোণি অঞ্চলের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি ঘটে থাকে।

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা)

সাম্প্রতিক সময়ে সন্তান প্রসবের পর নারীদের মধ্যে ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্যাটি মূলত মানসিক ও আবেগজনিত চাপের কারণে সৃষ্টি হয়। এর লক্ষণ হিসেবে অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং খিটখিটে মেজাজ—ইত্যাদি প্রকাশ পায়। অনেক ক্ষেত্রেই, পর্যাপ্ত যত্ন ও সহযোগিতার অভাব এই সমস্যাটি সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন : দুর্বল ফুসফুস কীভাবে শক্তিশালী করবেন? একজন বিশেষজ্ঞের কাছে জানুন

ডায়াবেটিস

নারীরা কেবল গর্ভাবস্থায়ই নয়, বরং সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়েও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার প্রতি যথাযথ মনোযোগের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার কারণেই মূলত এমনটি ঘটে থাকে। গর্ভাবস্থার পরবর্তী সময়ে নারীদের মধ্যে ‘টাইপ-২ ডায়াবেটিস’-এর ঘটনাও লক্ষ্য করা যায়। এমতাবস্থায়, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং যত্নবান হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনার শরীরে যদি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো লক্ষ্য করেন, তবে অনুগ্রহ করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত?

  • শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
  • অবিরাম ক্লান্তি
  • মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন
  • প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article