গ্রীষ্মকাল নিজের সাথে নিয়ে আসে নানাবিধ স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সমস্যা। এই সময়ে, আমরা যা কিছু খাই, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ওপর পড়ে। বাইরে খাওয়া-দাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করা কিংবা হিটস্ট্রোক বা লু-এর কবলে পড়ার মতো বিষয়গুলো প্রায়শই পেটের সাধারণ অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়—যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলো পেটের গোলমাল বা ‘আপসেট স্টমাক’। এর লক্ষণ হিসেবে সাধারণত ডায়রিয়া দেখা দেয়, যার ফলে শরীর সম্পূর্ণভাবে নিস্তেজ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যখন শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়, তখন পরিস্থিতিটি আরও বেশি কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। যদিও মানুষ প্রায়শই এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে ওষুধের আশ্রয় নেন, তবে সব সময় ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এমন বেশ কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যা পেটের অস্বস্তি দূর করতে এবং ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আজকাল মানুষ বিখ্যাত পুষ্টিবিদদের শেয়ার করা স্বাস্থ্য-বিষয়ক পরামর্শগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন এবং সেগুলো নিয়মিত অনুসরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের পুষ্টিবিদ—শ্বেতা শাহ—নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত পরামর্শ এবং ঘরোয়া প্রতিকারগুলো শেয়ার করে থাকেন। এবার তিনি এমন একটি বিশেষ পানীয়ের পরামর্শ দিয়েছেন, যা ডায়রিয়া থেকে মুক্তি দিতে অত্যন্ত কার্যকর। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই প্রতিকারটি সম্পর্কে এবং এটি তৈরি করতে কি কি উপকরণের প্রয়োজন হবে।
ডায়রিয়া থামানোর একটি ঘরোয়া প্রতিকার
বিখ্যাত পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি ডায়রিয়া থামানোর একটি ঘরোয়া প্রতিকার শেয়ার করেছেন। এই প্রতিকারটি তৈরি করতে মাত্র তিনটি সাধারণ উপকরণের প্রয়োজন হয়: দই, কারি পাতা এবং হলুদ। এটি তৈরি করার জন্য, দুই টেবিল চামচ তাজা দই নিন; এর সাথে ৭ থেকে ৮টি কারি পাতা এবং এক চিমটি হলুদ যোগ করুন। এরপর সবকটি উপকরণ একসাথে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। টানা ৭ থেকে ৮ দিন ধরে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আপনাকে এই মিশ্রণটি খেতে হবে। এটি পেটের অস্বস্তি দূর করে তাকে স্বস্তি দেবে এবং ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে।
এই পানীয়টির উপকারিতা
পেট ঠান্ডা রাখে – পুষ্টিবিদদের মতে, এই পানীয়টি পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। যেহেতু দইয়ের নিজস্ব প্রকৃতিই হলো শীতল, তাই এটি গ্রহণ করলে পেটের ভেতর এক ধরণের প্রশান্তিদায়ক ও প্রাকৃতিক শীতলতা অনুভূত হয়। এটি ডায়রিয়া বা উদরাময় রোধ করতেও সহায়তা করে।
মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করে – দই যেমন পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়ক, তেমনি কারি পাতা পেটকে স্থিতিশীল রাখতে বা শান্ত রাখতে উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি প্রতিদিন সেবন করলে ঘন ঘন পেটের গোলযোগ প্রতিরোধ করা যায় এবং পাতলা পায়খানার ঝুঁকি কমে।
আরও পড়ুন : ৫ টি খাবার যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, আপনি কি খাচ্ছেন সেগুলো?
হজমশক্তির উন্নতি ঘটায় – দই হলো একটি প্রোবায়োটিক; তাই হজমশক্তির উন্নতি এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উপকারী। তবে, এই সুফলগুলো পুরোপুরি পেতে হলে এটি নিয়মিত সেবন করা আবশ্যক।
পিত্তের ভারসাম্য বজায় রাখে – পিত্তের (bile) প্রকোপ বৃদ্ধি প্রায়শই পেটের গোলযোগ বা ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে, কারি পাতা এবং হলুদ সেবন করলে পিত্তের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যার ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
যদিও এই ঘরোয়া প্রতিকারটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এর ফলে শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেই, তবুও যদি পাতলা পায়খানার সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করে কিংবা আপনি কোনো উপশম অনুভব না করেন, তবে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।