দু’মাসের মধ্যে আসতে পারে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট

5 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

ওয়েব ডেস্ক: আলফা, বিটা, গামা এবং ডেল্টার পরে ভারতে আরও একটি নতুন করোনার বৈকল্পিক প্রকাশ পেয়েছে, যা সাত দিনের মধ্যে রোগীর ওজন হ্রাস করতে পারে। ভাইরাসের এই রূপটি প্রথম ব্রাজিলে পাওয়া গিয়েছিল। তবে তারই একটা বিকল্প ভারতে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল। এখন বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ব্রাজিল থেকে একটি নয় দুটি দুটি রূপ ভারতে এসেছিল এবং এই দ্বিতীয় রূপটি বি.১.৬১৭.২, যা অনেক দ্রুত গতি তে মানুষের শরীরে ছিরিয়ে পরতে পারে। বিজ্ঞানীরা দাবি করলেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে ডেল্টা (বি.১.৬১৭.২) প্রজাতির পরিবর্তন হতে পারে। আসতে পারে করোনার নয়া এই প্রজাতি।

দু'মাসের মধ্যে আসতে পারে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট

সিরিয়ার হামস্টার (ইঁদুরের একটি প্রজাতি) -এর পরীক্ষাগুলিতে দেখা গেছে যে সংক্রামিত হওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই রূপটি সনাক্ত করা যায়। এই রূপটি দেহের দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে পারে এবং ডেল্টার মতো এটি আরও মারাত্মক হতে পারে এবং অ্যান্টিবডি সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে।

সংবাদসংস্থা এএনআইতে সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির (সিসিএমবি) উপদেষ্টা রাকেশ মিশ্র বলেন, ‘মনে হচ্ছে যে অধিকাংশ দেশের ৮০-৯০ শতাংশ করোনা আক্রান্তের মূলে আছে ডেল্টা প্রজাতি। কিন্তু দু’মাসের মধ্যে নয়া প্রজাতির (করোনাভাইরাসের) সঙ্গে সেটির (ডেল্টা প্রজাতি) পরিবর্তন হতে পারে। ব্রিটেনের কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেল্টা পুষ্টি সংগ্রহ করছে। তার মানে এই নয় যে নয়া প্রজাতি আরও বেশি ভয়ংকর হবে।’

লোকাল ট্রেন চালান নিয়ায়ে পূর্ব রেলের তরফ থেকে চিঠি রাজ্য কে

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য ডেল্টা প্রজাতি দায়ী। সম্প্রতি ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং ইন্সটিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটিভ বায়োলজির গবেষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেল্টা (বি.১.৬১৭.২) ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ রোখা আরও বেশি কঠিন। সেই করোনা প্রজাতির ফলে গুরুতর অসুস্থতার সম্ভাবনাও বেশি। এমনকি টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পরও আক্রান্তের সংখ্যার বাড়তে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

বিষয়টি নিয়ে ভেলরের ক্রিশ্চান মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক গগনদীপ কঙ্গ বলেছিলেন, ‘ডেল্টা প্রজাতির ফলে যে গুরুতর রোগ হয়, তার বিরুদ্ধে কোভিশিল্ডের কার্যকারিতা নিয়ে আমাদের পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কিন্তু পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) এবং ক্রিক ইন্সটিটিউটের তথ্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বলছে যে কোনও পরিবর্তনের দরকার কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের নীতি এবং মডেল পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে।’

আপনি কি ডায়াবেটিসের সমস্যাই ভুগছেন ? এটি নিয়ন্ত্রণে আয়ুর্বেদিক উপাই যেনে নিন

জুনের গোড়ার দিকে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলফা ভ্যারিয়েন্টের থেকে ভারতে প্রথম হদিশ পাওয়া ডেল্টার (বি.১.৬১৭.২) ক্ষেত্রে হাসপাতালে বেশি ভরতি হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গত ২৭ মে পিএইচইয়ের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্যান্য প্রজাতির নিরিখে ডেল্টার ক্ষেত্রে করোনা টিকার শুধুমাত্র প্রথম ডোজের কার্যকারিতা অনেকটা কম। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফাইজারের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৩৩.২ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। দ্বিতীয় ডোজের পর তা দাঁড়িয়েছে ৮৭.৯ শতাংশে। অন্যদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকার (কোভিশিল্ড) ক্ষেত্রে প্রথম ডোজের কার্যকারিতা ৩২.৯ শতাংশ। যা দ্বিতীয় ডোজের পর দাঁড়িয়েছে ৫৯,৮ শতাংশে।

রোগ প্রতিরোধ করতে ও সুস্বাস্থ্যতা বজাই রাখতে খান লিচু, দেখে নিন এর আরও পুষ্টি গুন

সেই বিষয়েই সপ্তাহ দেড়েক আগেই নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ল্যানসেট। গবেষণাগারে বিভিন্ন করোনা প্রজাতির বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতার পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা ফাইজার-বায়োএনটেক টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন, তাঁদের শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তা আলফা প্রজাতির থেকে ডেল্টাকে ৫.৮ গুণ কম রুখতে পারে। ডেল্টার মতো একইরকমভাবে টিকার কম কার্যকারিতা দেখা গিয়েছিল গামা প্রজাতির ক্ষেত্রেও। ল্যানসেটের গবেষকদের বক্তব্য, সেই তথ্য থেকে পরিষ্কার যে টিকার দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান কম রাখতে হবে। অর্থাৎ বেশি সংখ্যক মানুষের টিকা করণের জন্য দুটি ডোজের ব্যবধান বাড়িয়ে দিলে ডেল্টা প্রজাতির ক্ষেত্রে স্বল্পকালীন সময় টিকার কার্যকারিতা হ্রাস পায়।

পুণ্যের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজি (এনআইভি) -এর ডাঃ প্রজ্ঞা যাদব বলেছিলেন যে বি.১.৬১৭.২ রূপটি বাইরের থেকে আসা দু’জনের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পরে, আমরা এটিও পরীক্ষা করেছিলাম যাতে আমরা এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারি। এখন অবধি ভারতে এরকম খুব বেশি কেস নেই। যেখানে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে। তবে, সজাগ থাকা টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি অ্যান্টিবডিগুলির স্তরও কমিয়ে দেয়, যার কারণে আবার সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article