Table of Contents
শীতকাল থাইরয়েড রোগীদের জন্য কিছুটা কঠিন এবং সংবেদনশীল হতে পারে। ঠাণ্ডা বাড়ার সাথে সাথে অলসতা, ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি এবং ঠাণ্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওষুধের পাশাপাশি, থাইরয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে মানুষ প্রায়শই গরম, ভাজা এবং মিষ্টি খাবার বেশি খেতে পছন্দ করে, যা থাইরয়েড রোগীদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং তাদের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কখনও কখনও, ভুল খাদ্যাভ্যাস ওষুধের কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে।
তাই, শীতকালে কি খাবেন এবং কি খাবেন না সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য, যাতে উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতের মাসগুলোতে থাইরয়েড রোগীদের কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
শীতকালে থাইরয়েড রোগীদের কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?
গাজিয়াবাদের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. অমিত কুমার ব্যাখ্যা করেন যে, থাইরয়েড রোগীদের শীতকালে অতিরিক্ত ভাজা, মশলাদার খাবার এবং বাইরের জাঙ্ক ফুড খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো ওজন বৃদ্ধি এবং ক্লান্তি বাড়াতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে সয়াবিন এবং সয়াবিন-ভিত্তিক পণ্য খেলে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
বাঁধাকপি, ফুলকপি এবং ব্রোকলির মতো কাঁচা সবজি বেশি খেলেও সমস্যা বাড়তে পারে। এছাড়াও, অতিরিক্ত মিষ্টি, পরিশোধিত ময়দা এবং বেকারি পণ্য খাওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে। শীতকালে অতিরিক্ত চা এবং কফি পান করাও থাইরয়েড রোগীদের জন্য ভালো নয়। তাই, এই খাবারগুলো সীমিত রাখলে উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
আরও পড়ুন : ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই আপনার শরীর ক্লান্ত লাগে কেন? এই ৫টি গোপন স্বাস্থ্যগত কারণই এর জন্য দায়ী
থাইরয়েডে কি কি খাবার খাবেন
থাইরয়েড রোগীদের শীতকালে একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। হালকা গরম দুধ, দই এবং জলের সীমিত পরিমাণে খেলে শরীরে শক্তি জোগায়। সবুজ শাকসবজি, মৌসুমী ফল এবং গোটা শস্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। বাদাম এবং বীজ যেমন কাঠবাদাম, আখরোট এবং ফ্ল্যাক্সসিড শক্তি জোগায় এবং শরীরকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ ক্লান্তি কমায় এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে। এই জিনিসগুলো থাইরয়েড রোগীদের ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
থাইরয়েড রোগীদের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে ওষুধ খান।
- ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখুন।
- প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।
- পর্যাপ্ত গভীর ঘুম ঘুমান। মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
- নিয়মিত আপনার থাইরয়েডের মাত্রা পরীক্ষা করান।
