আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মানুষের উচিত দুগ্ধজাত চর্বি বা ‘ডেয়ারি ফ্যাট’-এর গ্রহণ কমিয়ে দেওয়া এবং এর পরিবর্তে খাবারে উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন যুক্ত করা। উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন বলতে ঠিক কি বোঝায় এবং এটি কোথায় পাওয়া যায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমরা আরএমএল (RML) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ইউনিট প্রধান ডা. সুভাষ গিরির সাথে কথা বলেছি।
ডা. সুভাষ ব্যাখ্যা করেন যে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন বলতে সেই প্রোটিনকে বোঝায় যা উদ্ভিদ বা গাছপালা থেকে পাওয়া যায়। এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য এবং এতে রয়েছে নানাবিধ অ্যামিনো অ্যাসিড, সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ভিটামিন। দুগ্ধজাত পণ্য—যেমন দুধ বা ঘি-তে পাওয়া যায় এমন প্রাণীজ প্রোটিনের তুলনায় এই ধরণের প্রোটিন অনেক বেশি উপকারী হতে পারে। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম থাকে; আর এই বৈশিষ্ট্যটিই হৃদপিণ্ডের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হিতকর বলে মনে করা হয়। যেসব মানুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, যাদের আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে, অথবা যাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি—তাদের জন্য উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন গ্রহণ করা বিশেষভাবে লাভজনক।
উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের উৎসসমূহ:
- ডাল (মুগ, মসুর, অড়হর)
- ছোলা
- রাজমা (কিডনি বিনস)
- সয়াবিন
- কাঠবাদাম
- আখরোট
- চিয়া বীজ
- কুইনোয়া
- বাদামী চাল (ব্রাউন রাইস)
দুগ্ধজাত প্রোটিনের তুলনায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন কেন বেশি উপকারী?
ডা. সুভাষ উল্লেখ করেন যে, দুগ্ধজাত প্রোটিন মূলত প্রাণীজ উৎস থেকে আসে—যেমন দুধ এবং সেই দুধ দিয়ে তৈরি মাখন বা ঘি। এই ধরণের পণ্য অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে চর্বির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীতে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন—যেমন বিভিন্ন ধরণের ডাল বা রাজমা—গ্রহণ করলে শরীরের চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তাছাড়া, এই খাবারগুলোতে যে ফাইবার বা আঁশ থাকে, তা পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে; ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার কারণে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এটি স্থূলতা বা মেদভুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এবং হৃদপিণ্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এছাড়া দুগ্ধজাত প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার ঝুঁকিও থেকে যায়। এর ফলে অনেকেই হজমজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। তবে, এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি যে, যারা কঠোরভাবে উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাদের শরীরে যেন ভিটামিন B12 এবং আয়রনের ঘাটতি দেখা না দেয়।
আরও পড়ুন : পেটের সুস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন খান এই ছোট্ট জিনিসটি
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ডা. সুভাষ উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি মানুষের শরীরই স্বতন্ত্র; যা একজনের শরীরের জন্য উপযুক্ত, তা হয়তো অন্যজনের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই, আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করে থাকেন এবং এখন উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তিত হতে চান, তবে আগে থেকেই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।