গ্রীষ্মকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। এই সময়ে, শরীরকে ঠান্ডা রাখতে মানুষ প্রায়শই ঠান্ডা জল, আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয়ের মতো খাবার গ্রহণ করেন। যদিও এই খাবারগুলো গলার জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এগুলো গলার সংবেদনশীল আবরণের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া, তীব্র গরম থেকে বাঁচতে আমরা প্রায়শই দীর্ঘ সময় ধরে এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ার কুলারের সামনে বসে থাকি, যার ফলে গলার ভেতর শুষ্কতা বেড়ে যায়। এই শুষ্কতা শেষমেশ গলার ব্যথা এবং কাশির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ধুলোবালি এবং দূষণও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে গলার অস্বস্তি এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
এই পরিস্থিতিতে, সমস্যাটিকে উপেক্ষা না করে যথাসময়ে এর প্রতিকার করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও বাজারে এই ধরনের অসুস্থতার জন্য অসংখ্য ‘ওভার-দ্য-কাউন্টার’ (চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই লভ্য) ওষুধ পাওয়া যায়, তবুও আপনি সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেই গলার ব্যথা, কাশি এবং সর্দির মতো সমস্যা থেকে ঘরে বসেই মুক্তি পেতে পারেন। এই নিবন্ধে, আসুন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ করা এমনই কিছু ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
মধু এবং হালকা গরম জল
জয়পুরের ক্লিনিক্যাল আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ কিরণ গুপ্ত ব্যাখ্যা করেন যে, মধুর সাথে হালকা গরম জল মিশিয়ে পান করা গলার ব্যথা উপশমে অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। মধুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া-নাশক এবং প্রশান্তিদায়ক গুণাবলি বিদ্যমান, যা গলার অস্বস্তি ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এক গ্লাস হালকা গরম জলে মাত্র এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন এবং ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন। এই প্রতিকারটি গলার শুষ্কতা দূর করতে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
লবণ-জল দিয়ে গার্গল করা
বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণ-জল দিয়ে গার্গল বা কুলকুচি করাও গলার ব্যথায় উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দেয়। এটি অন্যতম প্রাচীন এবং অত্যন্ত কার্যকর একটি ঘরোয়া প্রতিকার। এক গ্লাস হালকা গরম জলে মাত্র আধা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন এবং দিনে ২ থেকে ৩ বার গার্গল করুন। এটি গলার প্রদাহ বা ফোলাভাব কমায়, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি প্রদান করে।
আরও পড়ুন : অতিরিক্ত খাওয়া কি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়? জানুন
আদা এবং তুলসী চা
আদার মধ্যে প্রদাহ-নাশক (anti-inflammatory) গুণাবলি রয়েছে, অন্যদিকে তুলসী শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। জলেতে আদার টুকরো এবং ৪ থেকে ৫টি তুলসী পাতা ফুটিয়ে এক ধরণের চা তৈরি করুন এবং এটি কুসুম গরম অবস্থায় পান করুন। এটি গলার ব্যথা, অস্বস্তিকর খসখসে ভাব এবং শুষ্কতা দূর করতে সহায়তা করে।
হলুদ মেশানো দুধও বেশ উপকারী
হলুদ একটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক (অ্যান্টিসেপটিক), যা গলার প্রদাহ বা ব্যথা উপশমে সহায়তা করে। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ হলুদ মিশিয়ে পান করুন। এটি গলার সংক্রমণ কমাতে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।
যষ্টিমধু (Mulethi) প্রদান করে স্বস্তি
এক টুকরো যষ্টিমধুর মূলও অত্যন্ত উপকারী, বিশেষ করে গলার ব্যথা নিরাময়ের ক্ষেত্রে। যষ্টিমধুর একটি ছোট টুকরো মুখে রাখুন এবং ধীরে ধীরে চুষতে থাকুন। এটি গলার ভেতরের অংশকে পিচ্ছিল ও আর্দ্র রাখে এবং গলার শুষ্কতা ও খসখসে ভাব দূর করতে সহায়তা করে।