অনেকে খাওয়ার পরপরই হাঁটতে যান। তারা বিশ্বাস করেন যে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেট ভারী বোধ হয় না। কেউ কেউ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, চিনির মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং অলসতা কাটিয়ে উঠতেও এটি করেন। যারা অফিসে বা বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকেন তারা মনে করেন খাওয়ার পর একটু হাঁটা প্রয়োজন। অনেকে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতেও এই অভ্যাসটি গ্রহণ করেন। কিছু লোকের জন্য, এটি রুটিনের অংশ হয়ে উঠেছে, যাতে তারা সক্রিয় থাকতে পারে এবং ঘুম বা অলসতা এড়াতে পারে।
তবে, প্রতিটি ব্যক্তির হজম ক্ষমতা আলাদা এবং শরীরের চাহিদাও আলাদা হতে পারে। আজকাল ফিটনেস ট্রেন্ডের কারণে মানুষ এই অভ্যাসটি গ্রহণ করছে। খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিক তথ্য ছাড়া কোনও অভ্যাস গ্রহণ করা ভালো নয়। তাই হাঁটার সঠিক সময় এবং উপায় জানা গুরুত্বপূর্ণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক।
খাওয়ার পরপরই হাঁটা ঠিক না ভুল?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটা সাধারণত সঠিক বলে বিবেচিত হয় না। খাবারের পর, শরীরের বেশিরভাগ রক্তপ্রবাহ পরিপাকতন্ত্রের দিকে যায়, যাতে খাবার সঠিকভাবে হজম হয়। এই ক্ষেত্রে, দ্রুত হাঁটা বা ভারী কার্যকলাপ হজম প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
কিছু লোকের পেটে ব্যথা, ভারীতা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তবে, কয়েক মিনিট হালকা এবং ধীরে হাঁটা ক্ষতিকারক নয়। এই ক্ষেত্রে, খাওয়ার পর 10 থেকে 15 মিনিটের জন্য অবসর গতিতে হাঁটা আপনার জন্য একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। খুব দ্রুত বা দীর্ঘ হাঁটা এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে যদি আপনি ভারী খাবার খেয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন : ৩৫ বছর বয়সের পর মহিলাদের খাদ্যতালিকায় কি কি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত
হাঁটা কতক্ষণ হওয়া উচিত?
খাওয়ার পর 10 থেকে 20 মিনিটের জন্য হালকা হাঁটা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়। খুব দ্রুত বা দীর্ঘ হাঁটার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে হাঁটা ভালো, যাতে হজম প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যদি খাবার ভারী হয়, তাহলে প্রথমে ১০-১৫ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং তারপর হালকা হাঁটা শুরু করুন। প্রতিদিন নিয়মিত এবং সুষম হাঁটা বেশি উপকারী।
খাওয়ার পর হাঁটার উপকারিতা
খাওয়ার পর হালকা হাঁটা হজমশক্তি উন্নত করতে পারে এবং গ্যাস বা ভারী ভাবের সমস্যা কমাতে পারে। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। হালকা হাঁটার মাধ্যমে শরীর সক্রিয় থাকে এবং অলসতা কমে। নিয়মিত অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাক উন্নত করতেও সাহায্য করতে পারে।