Table of Contents
অনেক গুরুতর রোগ থেকে জীবন বাঁচাতে অ্যান্টিবায়োটিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় এগুলো অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং অতিরিক্ত ব্যবহার একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ওষুধগুলো বিচক্ষণতার সাথে ব্যবহার না করা হয়, তবে সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক হতে পারে।
মানুষ প্রায়শই সামান্য জ্বর, সর্দি বা গলা ব্যথার জন্য নিজে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে। এই অভ্যাসটি ধীরে ধীরে একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠছে। অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও সীমিত ব্যবহার কেবল রোগীর জন্যই নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি স্বাস্থ্যগত বিষয়। সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা ছাড়া এই হুমকি প্রতিরোধ করা কঠিন। চলুন জেনে নিই কেন অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিপজ্জনক এবং কীভাবে এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কেন একটি বড় হুমকি হতে পারে?
লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ওরাল ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. প্রবেশ মেহরা ব্যাখ্যা করেন যে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিপজ্জনক কারণ এটি ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে। যখন অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা হয় বা সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করা হয় না, তখন কিছু ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকে, যা ভবিষ্যতে ওষুধটিকে কম কার্যকর করে তোলে।
এর মানে হলো, একই ওষুধ আবার গ্রহণ করলে তা আর কাজ নাও করতে পারে। এর ফলে সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে এবং চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এটি শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা এবং গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। ভবিষ্যতে সার্জারি, ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং আইসিইউ চিকিৎসাও আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একারণেই অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার একটি বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন : যদি আপনার ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, তবে আপনি এই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। জানুন
AMR (অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স) কি?
ডা. প্রবেশ মেহরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, AMR বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যাকটেরিয়া ওষুধের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সহজ কথায়, ওষুধগুলো তাদের কার্যকারিতা হারায়। এই সমস্যাটি ধীরে ধীরে বাড়ে, একারণেই এটিকে একটি নীরব মহামারীও বলা হয়।
AMR-এর প্রধান কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং অতিরিক্ত ব্যবহার। যখন ওষুধ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন সাধারণ সংক্রমণও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এটি কেবল রোগীর জীবনকেই বিপন্ন করে না, চিকিৎসার খরচ এবং সময়ও বাড়িয়ে দেয়। AMR পুরো বিশ্বের জন্য একটি গুরুতর স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে ব্যবহার করার উপায় কি?
এই ঝুঁকি প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে ব্যবহার করা। অ্যান্টিবায়োটিক সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উচিত। সঠিক মাত্রায় এবং সম্পূর্ণ মেয়াদে ওষুধ সেবন করা অপরিহার্য। সর্দি, কাশি, ফ্লু বা সাধারণ জ্বরের মতো ভাইরাল অসুস্থতার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ শুরু করা বা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এছাড়াও, অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক পুনরায় ব্যবহার করা উচিত নয়। দায়িত্বশীল ব্যবহারই একটি নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যতের একমাত্র নিশ্চয়তা।
