Table of Contents
ডায়াবেটিস আজকাল একটি সাধারণ অথচ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবর্তিত জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে সব বয়সের মানুষ এর শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালে ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। এই ঋতুতে শরীরের চাহিদা পরিবর্তিত হয় এবং খাদ্য সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য সকালের সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খালি পেটে যা খাওয়া হয় তা সারাদিনের রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে। তাই, ডায়াবেটিস রোগীদের সকালে খালি পেটে কি খাওয়া উচিত এবং কোন খাবারগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, তা জানা অপরিহার্য।
ডায়াবেটিস রোগীরা সকালে খালি পেটে কি খাবেন?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে, ডায়াবেটিস রোগীদের সকালে খালি পেটে হালকা, পুষ্টিকর এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী। হালকা গরম জল পান করে দিন শুরু করা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। এছাড়াও, সীমিত পরিমাণে ভেজানো বাদাম বা আখরোট খাওয়া যেতে পারে।
অঙ্কুরিত ডাল, ওটস বা পরিজ এমন কিছু বিকল্প যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। সকালে আমলকি বা এর রসও উপকারী। সবুজ সবজি দিয়ে তৈরি হালকা রস বা সালাদ হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এই খাবারগুলো খেলে সারাদিন শক্তি বজায় থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের সকালে খালি পেটে কি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত?
ডায়াবেটিস রোগীদের সকালে খালি পেটে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। চিনিযুক্ত চা, চিনি বা গুড় দিয়ে দুধ এবং প্যাকেটজাত জুস খালি পেটে খেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়াও, সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক বা ভাজা খাবারও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সকালে খালি পেটে খুব মিষ্টি ফল বা কলার মতো উচ্চ শর্করাযুক্ত ফল খাওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত। এই খাবারগুলো ইনসুলিনের মাত্রাকে প্রভাবিত করে এবং সারাদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন : মেকআপ তোলার সঠিক উপায় কি? খুব কম মেয়েই এটা জানে। আপনিও জানুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এই বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান।
- আপনার দৈনন্দিন রুটিনে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা অন্তর্ভুক্ত করুন।
- সময়মতো আপনার ওষুধ সেবন করুন।
- নিয়মিত আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ঘুমান এবং মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
Disclaimer: এই তথ্য এবং এই বিষয়ে আরও তথ্য পেতে আপনি বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
