কিডনির সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বজায় রাখা অপরিহার্য: কেন এই মাত্রার ওঠানামা ঘটে?

শরীরের জন্য কিডনির সুস্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তবে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন প্রায়শই কিডনির কার্যক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্রিয়েটিনিন মাত্রার ভারসাম্যহীনতা। ক্রিয়েটিনিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চলুন একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যাক।

3 Min Read

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, কিডনি-সম্পর্কিত রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিডনি রোগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার একটি প্রাথমিক কারণ হলো খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। কিডনির কার্যক্ষমতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব সমগ্র শরীরের ওপর পড়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো ক্রিয়েটিনিন মাত্রার বিশৃঙ্খলা; বস্তুত, অধিকাংশ কিডনি রোগের সূত্রপাত ঘটে যখন ক্রিয়েটিনিন মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বা অনেক কম হয়ে যায়। আসলে ক্রিয়েটিনিন কি? কেনই বা এর মাত্রার ওঠানামা ঘটে? এই পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক? চলুন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডা. হিমাংশু ভার্মা ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমান সময়ে মানুষ ক্রমশ কম বয়সেই কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রবণতার পেছনে একটি অন্যতম কারণ হলো ক্রিয়েটিনিন মাত্রার ভারসাম্যহীনতা। ক্রিয়েটিনিন হলো এক ধরণের বর্জ্য পদার্থ, যা শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিনিয়ত তৈরি হতে থাকে। এটি রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে কিডনিতে পৌঁছায়; কিডনি তখন রক্ত​থেকে এই বর্জ্য পদার্থটি ছেঁকে আলাদা করে এবং পরবর্তীতে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। এই ছাঁকনি বা পরিস্রাবণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীরে ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে। ঠিক এই কারণেই, শরীরে ক্রিয়েটিনিন-এর মাত্রাকে কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের একটি প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ক্রিয়েটিনিন মাত্রা কেন বৃদ্ধি পায়?

ডা. হিমাংশু এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন; এর মধ্যে রয়েছে—পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করা, অতিরিক্ত প্রোটিন যুক্ত খাবার গ্রহণ, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ। এই সমস্ত কারণই শরীরের ক্রিয়েটিনিন-এর ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করতে পারে। ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া—কোনোটাই শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয় না। ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং এমতাবস্থায় অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ বা চিকিৎসার প্রয়োজন। এর বিপরীতে, ক্রিয়েটিনিন মাত্রা কমে যাওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের বা কিডনি বিকল হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। তবে, ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বেড়ে যাওয়াটাই অধিকতর বিপজ্জনক; মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম থাকলে তা সাধারণত ততটা ক্ষতিকর হয় না।

আরও পড়ুন : ফুসফুসে তরল জমা কতটা বিপজ্জনক? এমনটা কেন ঘটে? — বিশেষজ্ঞদের কাছে জানুন

ক্রিয়েটিনিন মাত্রার স্বাভাবিক পরিসীমা বা মাত্রা কত হওয়া উচিত?

সাধারণত, ক্রিয়েটিনিন-এর মাত্রা ০.৭ থেকে ১.৩ mg/dL-এর মধ্যে থাকা উচিত। তবে, বয়স, পেশির ভর এবং যে নির্দিষ্ট গবেষণাগারে পরীক্ষাটি করা হচ্ছে—তার ওপর ভিত্তি করে এই পরিসীমাটি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

কিডনির সুস্বাস্থ্যের জন্য করণীয়:

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন—অন্তত ৭ থেকে ৮ গ্লাস।
  • লবণ গ্রহণের পরিমাণ দৈনিক ৫ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রোটিন গ্রহণ করবেন না।
  • প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন।
Share This Article