খালি পেটে সকালে করা এই ৫টি ভুল আপনার রক্তে শর্করার মাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে: জেনে নিন কি করবেন এবং কি এড়িয়ে চলবেন

সকালের কিছু সাধারণ অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে, মানুষ প্রায়শই এই বিষয়গুলোকে তুচ্ছ মনে করে উপেক্ষা করে। এই নিবন্ধে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

4 Min Read

আপনার সকালটা যদি ভালোভাবে শুরু হয়, তবে পুরো দিনটিই সাধারণত বেশ মসৃণভাবে কাটে। এর বিপরীতে, সকালটা যদি ভুলভাবে শুরু হয়, তবে দিনের বাকি অংশটিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বাস্তবে, আমরা প্রায়শই অজান্তেই এমন কিছু ছোটখাটো ভুল করে ফেলি, যা ধীরে ধীরে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর—বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর—উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বর্তমানের দ্রুতগতির জীবনযাত্রায়, মানুষ প্রায়শই এমন কিছু অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে—যেমন ঘুম থেকে উঠেই চা বা কফি পান করা, দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা, কিংবা সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চলা; এই আচরণগুলো শরীরের গ্লুকোজের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

যদি এই অভ্যাসগুলোকে সময়মতো চিহ্নিত করে সংশোধন করা যায়, তবে যে কেবল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব তা-ই নয়, বরং সারা দিন ধরে শরীরের সামগ্রিক শক্তিস্তর, হজমশক্তি এবং বিপাকক্রিয়ারও (metabolism) উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটানো সম্ভব। তাই, আপনি যদি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তবে এই নিবন্ধটি আপনার জন্যই। এখানে আমরা সকালের এমন পাঁচটি নির্দিষ্ট অভ্যাসের কথা তুলে ধরব, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

সকাল শুরু করা জুস বা স্মুদি দিয়ে

সকালে ঘুম থেকে উঠেই সবার আগে তাজা ফলের জুস, স্মুদি কিংবা চিনিমুক্ত কোনো পানীয় পান করাটা দেখতে বেশ স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। তবে, খালি পেটে পান করা হলে এই পানীয়গুলো শরীরের ওপর এক ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে। এগুলোতে সাধারণত ফাইবারের (তন্তু) পরিমাণ কম থাকে, যার ফলে চিনি খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রায় হঠাৎ করে একটি বড় উল্লম্ফন বা ‘স্পাইক’ (তীব্র বৃদ্ধি) সৃষ্টি করে। এর পরপরই প্রায়শই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যায় (ক্র্যাশ করে), যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হয় এবং খাবার খাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা (cravings) জাগে।

সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া এবং কেবল ব্ল্যাক কফি পান করা

অনেকেই সকালে দীর্ঘক্ষণ কিছু না খেয়ে কাটিয়ে দেন এবং কেবল ব্ল্যাক কফি পান করেন। এই অভ্যাসটিও রক্তে ইনসুলিনের মাত্রায় হঠাৎ উল্লম্ফন ঘটাতে পারে। মূলত, ক্যাফেইন ‘কর্টিসল’ নামক হরমোনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে; খালি পেটে এটি পান করা হলে, তা যকৃৎকে (liver) অতিরিক্ত পরিমাণে গ্লুকোজ নিঃসরণ করতে প্ররোচিত করতে পারে। সময়ের সাথে সাথে, এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

খালি পেটে উচ্চ-তীব্রতার শরীরচর্চা

খালি পেটে শরীরচর্চা বা ‘ফাস্টেড ওয়ার্কআউট’ মেদ কমানোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি; তবে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে, উচ্চ-তীব্রতার শরীরচর্চায় লিপ্ত হলে শরীরের অভ্যন্তরে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যেহেতু তখন শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য শক্তির অভাব থাকে, তাই শরীর গ্লুকোজ তৈরির উদ্দেশ্যে পেশিকলা (muscle tissue) ভাঙতে শুরু করে; যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন : পেটের সুস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন খান এই ছোট্ট জিনিসটি

সকালের শুরুতেই পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ

সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিস্কুট, সাদা পাউরুটি কিংবা প্যাকেটজাত নাস্তার দিকে হাত বাড়ানোটা সুবিধাজনক মনে হতে পারে, কিন্তু এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে দ্রুতগতিতে তা আবার কমেও যায়। প্রতিদিন এমনটা ঘটতে থাকলে তা ইনসুলিন উৎপাদনের প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বা ইনসুলিন অকার্যকারিতা তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

দীর্ঘ সময় ধরে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা

সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বা সবিরাম উপবাসের প্রবণতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে অনেকেই নিজেদের শরীরের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো যাচাই না করেই এই খাদ্যাভ্যাসটি অনুসরণ করতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস অবস্থায় থাকা—বিশেষ করে যখন এর সাথে মানসিক চাপ কিংবা ঘুমের অভাব যুক্ত হয়—তখন তা রক্তে শর্করার মাত্রার সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করতে পারে।

Share This Article